২০২৪ সালের জুলাই মাস। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে দেশের শিক্ষাঙ্গন। আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে রাজপথ থেকে ক্যাম্পাসে। এর ধারাবাহিকতায় দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষ, সংঘাত ও অসহযোগ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের।
এই পরিবর্তন বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করলেও এর পরবর্তী ধাক্কা এসে লেগেছে শিক্ষা ব্যবস্থায়। আন্দোলনের উচ্ছ্বাস থেমে গেলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে জন্ম নিয়েছে নতুন এক প্রবণতা— ‘মব কালচার’।
কী এই ‘মব কালচার’?
শিক্ষাবিদরা বলছেন, আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা যেভাবে দলবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমেছিল, সেই অভ্যাস এখন ছোটখাটো ঘটনাতেও প্রকাশ পাচ্ছে। ক্লাসে শৃঙ্খলা ভাঙা, তুচ্ছ বিষয়ে দল বেঁধে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অমান্য করা—এসবই এখন স্বাভাবিক দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষার্থীরা মনে করছে সংখ্যার জোরে যেকোনো কিছু আদায় করা সম্ভব। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভীতি, অস্থিরতা ও শিক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়ছে।
এক বছরের প্রভাব
আন্দোলনের এক বছরের মাথায় দেখা যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে কলেজগুলোতে নিয়মিত ক্লাস ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকরা পড়াতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হুমকি ও চাপের মুখে পড়ছেন।
অভিভাবকরা বলছেন, সন্তানদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। আন্দোলন তাদের হাতে যে শক্তি দিয়েছে, তা সঠিকভাবে ব্যবহার না করে শিক্ষার্থীরা যদি ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পড়ে, তবে দেশ এক ভয়াবহ সংকটে পড়বে।
কী করা উচিত
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শিক্ষার্থীদের শক্তি ও নেতৃত্বের ক্ষমতাকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করা।
এজন্য প্রয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য রাজনৈতিক সচেতনতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রশিক্ষণ ক্যাম্পাসে কঠোর শৃঙ্খলা রক্ষা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি সর্বোপরি, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠন।
উপসংহার
আন্দোলন একসময় ইতিহাস বদলায়, কিন্তু ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে তা ভয়ঙ্কর অরাজকতায় রূপ নেয়। ২০২৪ সালের কোটা আন্দোলন প্রমাণ করেছে শিক্ষার্থীরা পরিবর্তনের শক্তি। এখন দরকার সেই শক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো। নইলে মব কালচারের দাপটে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে পুরোপুরি, আর ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো জাতি।
