চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম এম.এ. মতিন স্যারের স্মরণে আয়োজিত মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট (সিজন-৩)–এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
১১ জুলাই (শুক্রবার) বিকেলে হাজীগঞ্জ উপজেলার টোরাগড় মুন্সি বাড়ি সংলগ্ন মাঠে এ প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনালে মুখোমুখি হয় ফ্রেন্ডশ ক্লাব বনাম টোরাগড় মুন্সি একাদশ। নির্ধারিত ৫০ মিনিটের (২৫ মিনিট করে দুই অর্ধ) খেলায় উভয় দলই রক্ষণাত্মক খেলে গোলশূন্য ড্র করে। পরে ট্রাইব্রেকারে গড়ানো উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ৬–৫ গোলে জয়লাভ করে টোরাগড় মুন্সি একাদশ।
খেলা শেষে মাঠেই অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক শামসুদ্দিন দুলাল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনে আল জায়েদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক।
সঞ্চালনায় ছিলেন সহকারী শিক্ষক জাহিদ হাসান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— হাজীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান খান বাচ্চু,উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও ৩নং কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন কিসলু,পৌর বিএনপির উপদেষ্টা হেলাল মজুমদার,পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সেলিম,পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বিল্লাল পাটওয়ারী,উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক জিসান আহমেদ সিদ্দিকী,পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এমরান হোসেন মুন্সি,৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমান হোসেন মুন্সি,যুবনেতা নজরুল ইসলাম অভি প্রমুখ।
আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, মরহুম এম.এ. মতিন স্যার ছিলেন একজন আদর্শ রাজনীতিক ও সমাজহিতৈষী মানুষ। তিনি এলাকার শিক্ষার উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ ও যুবসমাজকে সচেতন করার লক্ষ্যে বহু কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছেন। তার স্মরণে আয়োজিত এ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুধু একটি খেলার আয়োজন নয়—এটি তার স্বপ্ন ও আদর্শকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস।
পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল স্থানীয় তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। খেলার মাঠে প্রতিটি মুহূর্তে ছিল চাঞ্চল্য, হাততালি ও উল্লাস। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে খেলা উপভোগ করতে এসেছিলেন। নারী ও শিশুদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী বছর আরও বড় পরিসরে এ টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে একটি স্থায়ী ক্রীড়া কমিটি গঠন করে প্রতি বছর নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের দাবিও জানান বক্তারা।
খেলার মধ্য দিয়ে যেমন প্রতিযোগিতা, তেমনি গড়ে ওঠে বন্ধন, সহনশীলতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা। মরহুম এম.এ. মতিন স্যারের নামে এই টুর্নামেন্ট ভবিষ্যতেও যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করবে, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
