পরীক্ষার ফলাফল জানার জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত ওয়েবসাইটে যদি অনলাইন জুয়া বা বেটিংয়ের বিজ্ঞাপন দেখা যায়, তাহলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
সম্প্রতি ফলাফল দেখার একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশের সময় জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের বিষয়টি নজরে এসেছে। শিক্ষার্থীরা সাধারণত নিজেদের পরীক্ষার ফলাফল দেখতে এসব ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে। ফলে সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত জুয়া বা বেটিংয়ের প্রচারণা প্রদর্শিত হলে তা কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল-সংশ্লিষ্ট একটি ওয়েবসাইটে ম্যালওয়্যার আক্রমণের ঘটনায় অনলাইন গেমিংয়ের প্রচারণামূলক বার্তা দেখা যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা তখন এটিকে ম্যালওয়্যার আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া ও বেটিং নিয়ন্ত্রণে ২০২৬ সালে নতুন Gambling Prevention Act কার্যকর হয়েছে। নতুন আইনে অনলাইন জুয়া, বেটিং এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—শিক্ষার্থীদের ফলাফল জানার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জনসেবামূলক প্ল্যাটফর্মে কীভাবে জুয়ার বিজ্ঞাপন বা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট প্রদর্শিত হচ্ছে?
“যে ওয়েবসাইটে একজন শিক্ষার্থী নিজের ভবিষ্যতের ফলাফল দেখতে প্রবেশ করে, সেখানে যদি তার সামনে জুয়ার প্রলোভন হাজির হয়—তাহলে সেই ডিজিটাল পরিবেশ কতটা শিক্ষার্থী-বান্ধব?”
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখে শিক্ষার্থীদের জন্য ফলাফল প্রকাশের ওয়েবসাইটগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত, ক্ষতিকর ও আইনবিরোধী বিজ্ঞাপন বা কনটেন্ট যাতে প্রদর্শিত না হয়, তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে এ ধরনের বিজ্ঞাপনের উৎস ও দায় নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠছে।
