একটি সংবাদ তৈরি করতে কতটা মানসিক চাপ নিতে হয় তা অনেকের ধারণার বাইরে! সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে তা পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী তুলে ধরা একজন সংবাদকর্মী কাজ।
সংবাদ সংগ্রহ করতে একজন সংবাদকর্মীকে ঘটনাস্থল ও পক্ষ বিপক্ষের বক্তব্য নিতে হয়। সঠিক তথ্য পেতে কিছু ব্যক্তির পিছনে বেশ কয়েকবার ছুটাছুটি করতে হয়। তথ্য নিতে গিয়ে অনেকের রক্তচক্ষুর রোষানলে পড়তে হয়! কারো বিরুদ্ধে গেলে শুরু হয় নানান সমালোচনা! ভয় থাকে মামলা ও হামলার! কোন কিছুতেই নিউজ প্রকাশ বন্ধ করতে না পেরে চাঁদাবাজির তোকমা দেওয়া হয়! তারপরও নিউজ প্রকাশিত করতে পেরে সকল কষ্ট ভুলে যায় একজন সংবাদকর্মী।
আমাদের সমাজে বর্তমানে অনেকেই একটি ভুল করে থাকেন ফেইসবুক ইউজার অথবা ব্লগার কোন তথ্য প্রচার করলে এটাকে সংবাদ কিছু ক্ষেত্রে তাদেরকে সাংবাদিক হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন।
দয়াকরে মনে রাখতে হবে সাংবাদিক ছাড়া কেউ দায়বদ্ধতার মধ্যে পড়েন না! আমাদের অনেক ক্ষেত্রে নিউজে ভুল ক্রুটি থাকলে অনেক সময় সম্পাদক তা প্রকাশ করেন না। অনেক সময় অফিসের চাওয়া অনুযায়ী পুনরায় সংবাদ তৈরি করে দিতে হয়। মাঝে মধ্যে সম্পাদকের বকুনি খেতে হয়। তারপরও নিজেকে একজন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতে অনেক সময় লজ্জাবোধ করি। আমি মনে করি এখনো আমি অধ্যায়ন করছি। এতো ভয়ভীতি উপেক্ষা করে যখন একটি সংবাদ প্রকাশ করেতে পারি ঠিক তখনই আমাদের কষ্টের কিছুটা হলেও লাঘব হয়। সংবাদ প্রকাশের পর মনের কষ্ট কয়েকগুণ আবারো বেড়ে যায়, যখন দেখি আমার নিউজটি কপি করে আরেকজন বাহবা নিচ্ছে! এখনও এ জগতের কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই যেমনি করে আমাদের সমাজে ডাক্তারের অভাব নেই তেমনি সাংবাদিকের! আমার মতো এমন হাজারো সংবাদকর্মী বুক ফেটে যায় যখন তাদের সংবাদ কপি করা হয়।
আমি মাননীয় তথ্যমন্ত্রীর নিকট আবেদন করছি দয়াকরে একটি নীতিমালা তৈরি করুন যাতে অপসাংবাদিকতার পথ বন্ধ হয়ে যায়। তা নাহলে আমাদের সমাজের কেউ নিরাপদে থাকবে না!
