দেশের রাজনীতিতে তরুণ ভোটাররা এখন আর ভবিষ্যতের শক্তি নয় বরং বর্তমানের সবচেয়ে নির্ধারক ফ্যাক্টর। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতায় এই প্রজন্ম রাজনৈতিকভাবে যেমন সচেতন হয়েছে, তেমনি তারা হয়ে উঠেছে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর, প্রশ্নকর্তা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বদলাতে সক্ষম। এই প্রেক্ষাপটে তরুণদের আকর্ষণ করতে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে মাঠে নেমেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তরুণদের সামনে যে বার্তাটি তুলে ধরতে চাইছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দক্ষতা ও কর্মসংস্থান। তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর ও বাস্তবমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা, শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং আউটসোর্সিংয়ের সুযোগ সম্প্রসারণ এই বিষয়গুলো তরুণদের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল বাস্তবভিত্তিক হলেও তা কতটা বিশ্বাসযোগ্য হবে, সেটিই বিএনপির জন্য মূল চ্যালেঞ্জ।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তরুণদের কাছে মূলত কল্যাণমূলক রাজনীতির ধারণা তুলে ধরতে চায়। তবে দলটির নারী নীতি এবং আদর্শিক অবস্থান নিয়ে তরুণদের একটি বড় অংশের মধ্যে প্রশ্ন ও দ্বিধা রয়ে গেছে। বর্তমান প্রজন্ম জীবনধারা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সামাজিক বাস্তবতার আলোকে রাজনীতি বিচার করে যেখানে আদর্শিক কঠোরতা অনেক সময় তাদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তরুণদের কাছে পৌঁছাতে সবচেয়ে ভিন্নধর্মী ও আধুনিক কৌশল বেছে নিয়েছে। র্যাপ, ফোক ও আধুনিক সুরের সংমিশ্রণে তৈরি থিম সং, শর্ট ভিডিও, লাইভ কনটেন্ট এবং রিলস প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দলটি জেন-জি প্রজন্মের ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কনটেন্টের আকর্ষণ যতটা শক্তিশালী, রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও নীতিগত স্পষ্টতা ততটাই গুরুত্বপূর্ণ নইলে এই আগ্রহ ক্ষণস্থায়ী হয়ে যেতে পারে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর তরুণ ভোটাররা কেবল আবেগ বা স্লোগানে প্রভাবিত হয় না। তারা যুক্তি, বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার সমন্বয় খোঁজে। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর এই প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকায় তাদের মনোভাব দ্রুত পরিবর্তন হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক শক্তি তাদের আস্থা অর্জন করতে পারবে, তা নির্ভর করবে কথার চেয়ে বাস্তব কর্মপরিকল্পনা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর।
