সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এতে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে গবেষণা এখনো চলমান এবং আতঙ্কিত হওয়ার মতো চূড়ান্ত প্রমাণ এখনো মেলেনি।
মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটারের কম আকারের ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা, যা খাবার, পানি, বাতাস এবং কিছু ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্যের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। অতীতে কিছু টুথপেস্টে দাঁত পরিষ্কারের জন্য প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা (মাইক্রোবিড) ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশে তা নিষিদ্ধ বা সীমিত করা হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, বাজারে থাকা কিছু টুথপেস্টে এখনো মাইক্রোপ্লাস্টিক বা প্লাস্টিক-ভিত্তিক উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে। এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
গবেষকদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, শ্বাসতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের সমস্যার সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। তবে এগুলো এখনো নিশ্চিতভাবে কোনো নির্দিষ্ট রোগের কারণ হিসেবে প্রমাণিত হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট ব্যবহার করা, টুথপেস্ট গিলে না ফেলা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর মাধ্যমে ঝুঁকি কিছুটা হ্রাস করা সম্ভব।
উপসংহারে, বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক একটি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত উদ্বেগের বিষয় হলেও টুথপেস্টের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা মাইক্রোপ্লাস্টিক সরাসরি কোনো রোগ সৃষ্টি করে—এমন চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তাই গুজবে নয়, নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
