বিশ্বকাপে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই লুকিয়ে থাকে একেকটি গল্প। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে সুইডেনের ৫-১ গোলে জয়ের ম্যাচেও তেমন একটি গল্প আছে, যা তৈরি করলেন ম্যাচের প্রথম গোলদাতা ইয়াসিন আয়ারি।
সুইডিশ সংবাদপত্র আফটোনব্লাডেট-কে আয়ারির বাবা আজ্জুজ আয়ারি বলেছেন, ‘আমি চাইছিলাম সে সুইডেনের হয়ে খেলুক। তার মনে হওয়া উচিত যে সে তার দেশকে প্রতিদান দিচ্ছে, যারা তার খেয়াল রেখেছিল।’
স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটিতে অভিবাসী হিসেবে আসেন আজ্জুজ। তিনি জানান, তার ছেলেকে তিউনিসিয়ান দলে খেলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাবা-ছেলে সেই পথ বেছে নেননি।
সোলনায় ঘরের ক্লাব রাসুন্ডার যুব দলে সাত বছর বয়সে খেলা শুরু করেন আয়ারি। তারপর স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ফুটবল জায়ান্ট এআইকে-তে চলে যান, সেখানেই ২০২০ সালে সিনিয়র দলে অভিষেক। তিন বছর পর এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের সঙ্গে চুক্তি করে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ আলবিয়ন। একই বছর সুইডেন জাতীয় দলে অভিষেক হয়।
তিউনিসিয়ার লাল-সাদার পরিবর্তে সুইডেনের হলুদ ও নীল জার্সি পরার সিদ্ধান্ত নিয়ে আয়ারির ব্যাখ্যা—শৈশবে যে দেশের হয়ে খেলেছেন, তাদের প্রতিনিধিত্ব করা ‘সহজাত ব্যাপার’। ডিসেম্বরে ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র ঘোষণার দিনে তার বাবার পূর্বপুরুষের দেশের বিপক্ষে খেলার পরিহাস আয়ারির চোখ এড়ায়নি। তিনি বলেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য ছিল যে তারা আমাদের গ্রুপে এসে পড়ল।’
এই তরুণ প্রতিভা সুইডেনের তিউনিসিয়া বধে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছেন। ৯৫তম মিনিটে করেন দ্বিতীয় গোল। তবে এবার তিনি গোল উদযাপন করেন এবং ভক্তদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করলেন।
