ফেব্রুয়ারির হিমশীতল বাতাসে আজ ভেসে আসে হৃদয়ের সুর। প্রিয়জনকে ফুল, কার্ড, উপহার কিংবা হাসির এক মুহূর্তের মধ্য দিয়ে মানুষ উদযাপন করছে প্রেমের দিন ভালোবাসা দিবস।
আজ পহেলা ফাল্গুন, আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে আজ ভেসে আসে প্রেমের সুর, হৃদয়ের হাওয়া। প্রিয়জনকে ফুল, কার্ড আর ছোট্ট উপহারের মধ্য দিয়ে মানুষ আজ ভালোবাসার মাধুর্যকে উদযাপন করছে।
ঘুরে বেড়ানো, হাসি-আনন্দের মুহূর্ত ভাগাভাগি এসবের মধ্য দিয়ে এই দিনটি শুধু একটি তারিখ নয়, একটি অনুভূতির উৎসব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশেও এই দিনটি এখন এক আনন্দমুখর উৎসব। তার সূচনা করেন সাংবাদিক শফিক রেহমান। ১৯৯৩ সালে তাঁর মাসিক পত্রিকা ‘যায়যায়দিন’-এ ‘ভালোবাসা সংখ্যা’ প্রকাশিত হওয়ার পর, ১৪ ফেব্রুয়ারি তরুণ-তরুণীর হৃদয়ে দোলা দিতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি সামাজিক আয়োজনে রূপান্তরিত হয়েছে।
ভালোবাসা দিবসের ইতিহাসে রোমান প্রাচীন কাহিনিও রয়েছে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ‘ফেব্রুয়ালিয়া’ বা ‘লুপারকালিয়া’ উৎসব পালন হতো। উর্বরতা, সমৃদ্ধি ও দেবতার প্রতি ভক্তি প্রকাশ করাই ছিল সেই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তবে সেই সময়ের কিছু আচার ছিল বিতর্কিত, সহিংস এবং লটারির মাধ্যমে তরুণ-তরুণীর সঙ্গী নির্বাচনের প্রথাও চালু ছিল।
অন্য এক বর্ণনায় রোমান সম্রাট ক্লডিয়াসের আমলে খ্রিস্টান ধর্মযাজক ভ্যালেন্টাইন যুবকদের গোপনে বিয়ে দেন। সম্রাটের নির্দেশ অমান্য করার জন্য গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় ২৬৯ বা ২৭০ খ্রিস্টাব্দে। মৃত্যুর আগে তিনি একটি চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘তোমার ভ্যালেন্টাইন’ সেই লেখা আজ বিশ্ব ভালোবাসার প্রতীক।
কেউ আবার ভ্যালেন্টাইনকে চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করেন, যিনি অসুস্থ ও দুর্বলদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের জন্য তিনি মৃত্যুদণ্ড ভোগ করেন, আর পোপ জেলাসিয়ুস ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে ১৪ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করেন ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে।
মধ্যযুগে ইউরোপে দিনটি নিষিদ্ধ থাকলেও, সাহিত্যিক জিওফ্রে চসার ও পরবর্তী সময়ের উইলিয়াম শেকসপিয়রসহ অনেক লেখকের মাধ্যমে এটি ফিরে আসে। ধীরে ধীরে ইউরোপ ও আমেরিকায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, বাণিজ্যিক রূপ নেয়। আজ, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বহু দেশে বিপুল পরিমাণ শুভেচ্ছা কার্ড, ফুল, উপহার বিক্রি হয়। তবে বিশ্বের কিছু দেশে—ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, সৌদি আরব, ইরান, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়াসহ—দিবসটি সীমিত বা নিষিদ্ধও রয়েছে।
বিবিধ ইতিহাস, কাহিনি ও মতের মধ্য দিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি আজ শুধু ভালোবাসার দিন নয়; এটি সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি এবং হৃদয়ের আন্তরিক সংযোগের দিন। ব্যক্তি সম্পর্কের সীমা ছাড়িয়ে, এই দিন মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, ভালোবাসা এক চিরন্তন বার্তা, যা সকলকে একত্রিত করে।
