চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ধড্ডা সরফউদ্দিন মিয়াজী বাড়িতে পারিবারিক সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা বুঝিয়ে দেওয়া নিয়ে বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। বড় ভাই রবিউল হোসেন বতুর অভিযোগ, ছোট ভাইয়েরা তার ন্যায্য হিস্যার অতিরিক্ত সম্পত্তি দখল করে রেখেছেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিস-বৈঠক হলেও বিষয়টির সমাধান হয়নি বলে দাবি তার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধড্ডা মৌজার সিএস ৩১১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত সাবেক ৭৩২ ও ১১২০ নম্বর দাগের ভূমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছে। রবিউল হোসেন বতুর দাবি, তার ছোট ভাইয়েরা হিস্যার অতিরিক্ত জমি দখল করে রেখেছেন। ন্যায্য হিস্যা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলার পর তার দখলীয় ভূমিতে থাকা একটি দোচালা টিনের ঘর ও একটি একচালা টিনের রান্নাঘর ভেঙে ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।
রবিউল হোসেন বতু বলেন, “আমার ভাইয়েরা আমার ন্যায্য সম্পত্তির হিস্যা বুঝিয়ে দিচ্ছে না। এলাকার সালিস-দরবার ও আইনকানুনও তারা মানছে না। আমি আমার সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা বুঝে পেতে চাই।”
এ বিষয়ে রবিউল হোসেন বতুর স্ত্রী ডালিয়া বেগমের অভিযোগ, গত ১২ সেপ্টেম্বর ১১টার দিকে তারা দখলীয় ভূমিতে ঘর নির্মাণ করতে গেলে মিজান, জামাল হোসেন, আব্দুল আজিজ, মো. ফারুক ও মো. হৃদয় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় তারা অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন এবং লাঠিসোটা নিয়ে মারধরের জন্য উদ্যত হন। পরে কয়েকজন সাক্ষীর সহযোগিতায় তিনি রক্ষা পান বলে দাবি করেন।
ডালিয়া বেগম আরও অভিযোগ করেন, এ সময় তাদেরকে ঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি মামলা-মোকদ্দমা করলে মারধর, উচ্ছেদ, মিথ্যা মামলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত জামাল হোসেন বলেন, “দ্রুতই আমরা পারিবারিকভাবে বসে বিষয়টি মীমাংসা করব। আমরা বড় ভাইকে সবার পেছনে একটি জায়গা রেখেছি, কিন্তু তিনি সেখানে যেতে রাজি নন।”
রবিউল হোসেন বতু বলেন, তিনি এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, “অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে জমির মালিকানা, দখল ও ন্যায্য হিস্যার বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন রবিউল হোসেন বতু।
