৩০ বছর ধরে মাত্র ২০ টাকায় চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দ : ইউনিয়নের আহসানুল কবির সেলিম নামে এক পল্লী চিকিসৎক। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কাছে টাকা না থাকলেও দেন ফ্রি ওষুধ । এতে করে তিনি সবার কাছে গরিবের ডাক্তার হিসেবে পরিচিত। তার এই চিকিৎসা সেবা নিয়ে খুশি রোগী ও এলাকাবাসীরাও।
পল্লী চিকিসৎক আহসানুল কবির সেলিম গ্রামের বাড়ি শংকরপুর কাজী বাডি । সেখানে নিজ বাড়িতে বসেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি এই চিকিৎসা সেবা দেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আহসানুল কবির সেলিমের বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছেন প্রতিদিন নারী-পুরুষ। তারা সবাই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিতে এসেছেন। আর আহসানুল কবির নিজ ঘরে বসে রোগীদের দেখছেন। তার কক্ষ থেকে অনেকেই ওষুধের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বের হচ্ছেন আবার কাউকে তিনি নিজেই ওষুধ দিচ্ছেন। রোগী দেখার বিপরীতে কারো কাছ থেকে নিচ্ছেন নাম মাত্র টাকা ফি আবার কারো কাছ থেকে কোনো ফিও নিচ্ছেন না। দিচ্ছেন ফ্রি ওষুধও।
রোগী দেখার ফাঁকেই কথা হয় পল্লী চিকিৎসক আহসানুল কবিরের সঙ্গে। তিনি জানান, ছোট বেলা থেকেই চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করবেন। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই স্বপ্ন তার পূরণ হয়নি। তবে থেমে থাকেনি তিনি। নিজের চেষ্টায় চিকিৎসার প্রাথমিক ধারণা দেন। আরএমপি কোর্স সম্পন্ন করে, নিজ গ্রামে শুরু করেন চিকিৎসা সেবা। এভাবেই ৩০ বছর ধরে নামমাত্র টাকায় চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
আহসানুল কবির সেলিম বলেন, জ্বর, সর্দি, কাশ, বাতব্যাথা, প্যারালাইসিস, আঘাত লাগা, শ্বাসকষ্ট, চুলকানিসহ ছোটখাটো প্রায় সব ধরনের চিকিৎসা করেন। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ৫০ থেকে ১০০ জন রোগী দেখেন তিনি। নামমাত্র ফি নেন রোগীদের কাছ থেকে। আবার কোনো রোগীর কাছে টাকা না থাকলে রোগীদের কিছু জরুরি ওষুধ বিনামূল্যে দেন। এমনকি খুব দরিদ্র হলে ফ্রি ওষুধ ও দিয়ে দেন। তার এই চিকিৎসা সেবায় অনেকেই ভালো হন এবং উপকৃত হন। তাই আজীবন এভাবেই মানুষকে সেবা দিতে চান তিনি।
তার চেম্বার থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়ে বের হলে কথা হয় নুরজাহান বেগম এর সঙ্গে। এসময় তিনি বলেন, আমি অসুস্থ হলে অনেক ভালো ভালো ডাক্তারের কাছ থেকে ওষুধ খাইছিলাম কিন্তু আমার অসুখ ভালো হয়নি। আহসানুল কবির সেলিম চিকিৎসা নিয়ে ভালো আছি। আজকে আবার একটু এসে দেখেলাম।
আনোয়ার হোসেন পাটোয়ার নামে চিকিৎসা নিতে আসা আরেক রোগী বলেন, অ্যাক্সিডেন্ট করে আমার পায়ের সমস্যা হয়।বড় ডাক্তার দেখায় কিন্তু অনেক টাকার কথা বলে। পরে ওখান থেকে চলে আসার পর মানুষের কাছ থেকে শুনি যে সেলিম ডাক্তার খুব ভালো চিকিৎসা করেন । পরে এখানে এসে একবার ওষুধ খেয়ে অনেক আরাম পাইছি। আরাম পাওয়ার জন্য আবার আসছি।
স্থানীয় রাজিয়া বেগম নামে এক নারী বলেন, আহসানুল কবির সেলিম একজন গরীব মানুষের ডাক্তার। তিনি টাকার কোনো পরোয়া করেন না। যখনই কোনো রোগী আসে তখনই তাকে তিনি চিকিৎসা দেন খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে। আমরাও এখানে এসে চিকিৎসা নেই। টাকা না থাকলেও অনেক সময় তিনি গরীব মানুষদের বিনা টাকায় চিকিৎসা দেন। গরিবের ডাক্তার হিসেবে পরিচিত আমাদের কাছে।
