আমদানির আগ্রহ বাংলাদেশ-মালদ্বীপের মধ্যে স্বাস্থ্যখাত সহযোগিতা ও চিকিৎসা মানবসম্পদ উন্নয়নে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার, সম্প্রতি মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মোঃ নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপ প্রজাতন্ত্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রী গীলা আলীর সঙ্গে মালে-স্থিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকে মালদ্বীপের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণও উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎটি অত্যন্ত আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, যা বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতিফলন বহন করে, বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে।
বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশ হাইকমিশনার নবনিযুক্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং তাঁর সফল ও ফলপ্রসূ দায়িত্বপালন কামনা করেন। জবাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশে মেডিকেল ইন্টার্নশিপের সুযোগ প্রদান করায় আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি মালদ্বীপের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশি প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
আলোচনায় মালদ্বীপের স্বাস্থ্য মন্ত্রী বাংলাদেশের ঔষধ শিল্প ও স্বাস্থ্যখাতে অভূতপূর্ব অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং মালদ্বীপে বাংলাদেশি ঔষধ ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের আমদানি বৃদ্ধিতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে মালদ্বীপে ওষুধ সরবরাহের একটি বড় অংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এ প্রেক্ষাপটে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় দুই দেশের মধ্যে আরও সুসংগঠিত সরকারি পর্যায়ের ঔষধ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী আরও জানান যে, বাংলাদেশি ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের আন্তর্জাতিক মান, উৎপাদন সক্ষমতা ও গুণগত মান সরেজমিনে পর্যালোচনার জন্য মালদ্বীপ থেকে একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করতে আগ্রহী।
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল মালদ্বীপে স্বাস্থ্যখাতে জরুরি ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদের প্রয়োজনীয়তা, বিশেষ করে থেরাপিস্ট ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ। স্বাস্থ্য মন্ত্রী জানান যে, বর্তমানে মালদ্বীপের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যখাতে প্রায় পঞ্চাশজন থেরাপিস্টের জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ থেরাপিস্ট নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী ও দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কারণে বাংলাদেশ এই জরুরি প্রয়োজন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী আরও বলেন, মালদ্বীপ সরকার ভবিষ্যতে আরও অধিকসংখ্যক বাংলাদেশি চিকিৎসক, ফিজিশিয়ান, নার্স, থেরাপিস্ট এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীকে মালদ্বীপের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিতে আগ্রহী। তিনি বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও দীর্ঘদিনের অবদানের উচ্চ প্রশংসা করেন।
তিনি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বিদ্যমান স্বাস্থ্যখাত বিষয়ক সমঝোতা স্মারককে আরও কার্যকর, বাস্তবসম্মত ও পারস্পরিক উপকারী করার লক্ষ্যে তা হালনাগাদ ও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, মালদ্বীপের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মানবিক বিবেচনায় মালদ্বীপে অবস্থানরত অনিয়মিত বাংলাদেশি প্রবাসীদেরও ব্যয়বহুল নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (আইসিইউ) চিকিৎসাসহ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছে, যদিও এ ক্ষেত্রে আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
পরিশেষে হাইকমিশনার আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশি থেরাপিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়টি তিনি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অদূর ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দক্ষ বাংলাদেশি থেরাপিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মী মালদ্বীপে যোগদান করে দেশটির স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।
হাইকমিশনার আরও জানান যে, বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক কোটা ব্যবস্থার আওতায় মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য সাতটি পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি প্রদান করছে। তিনি মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান, যাতে তারা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ গ্রহণ করতে পারে।
তিনি মালদ্বীপ সরকারকে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ অব্যাহত রাখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, ঔষধ শিল্প ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও ভবিষ্যতমুখী পরিবেশে শেষ হয়। উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে স্বাস্থ্যখাত সহযোগিতা, চিকিৎসা মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ হাইকমিশন, মালদ্বীপ বৈঠকে আলোচিত বিষয়সমূহ, বিশেষ করে বাংলাদেশি থেরাপিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে।
