জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া বলেছেন, সাংবাদিকতা এখন আর কেবল পেশা নয়, এটি একটি চ্যালেঞ্জ ও দায়িত্বের নাম। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকগণ নানা ধরনের ঝুঁকি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। অনেকেই নিরলসভাবে কাজ করে গেলেও পাচ্ছেন না ন্যায্য পারিশ্রমিক কিংবা সামাজিক স্বীকৃতি। দুঃখজনকভাবে দেশের অনেক সংবাদকর্মী এখনো কোনো নির্দিষ্ট বেতন বা ভাতা ছাড়াই নিজেদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে তথ্য সংগ্রহ করছেন। সাংবাদিকদের জন্য একটি সুরক্ষিত, মর্যাদাপূর্ণ ও পেশাগতভাবে শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
শনিবার (২৮ জুন) বিকেলে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংবাদিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
আইয়ুব ভূঁইয়া বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আইনগত সহায়তা, স্বাস্থ্য সেবা এবং মানসিক প্রশান্তির দিকেও আমাদের মনোযোগ দিতে হবে। আপনারা এমন কাউকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করবেন না, যিনি জাতীয় পর্যায়ে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না। সাংবাদিকদের নেতৃত্বের মর্যাদা জাতীয় প্রেসক্লাবে তুলে ধরার যোগ্যতা থাকা জরুরি। আপনারা এমন কিছু করবেন না, যাতে আপনার বা আপনাদের প্রতিষ্ঠানের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়। মনে রাখবেন, একজন সাংবাদিকের একটিমাত্র ভুল রিপোর্ট কারো জীবন বদলে দিতে পারে।
তিনি দেশজুড়ে সাংবাদিক নির্যাতন, মামলা, হয়রানি ও পেশাগত বাধা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান। তার কথায় উঠে আসে, সাংবাদিকদের রিপোর্টের কারণে যেমন অনেক মামলার আসামিদের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়েছে, তেমনি ভুল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিপোর্টের কারণে কারো জীবনে বড় বিপদও এসেছে।
জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আইয়ুব ভূঁইয়া বলেন, যেভাবে সেই আন্দোলনে পাখির মতো মানুষ হত্যা করা হয়েছিল, তা আজও আমাদের ব্যথিত করে। অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি ও হিংসা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সাংবাদিকদের ভূমিকা হতে হবে অগ্রণী। সাংবাদিকতার ওপর পরিবার থেকে কোনো চাপ দেওয়া উচিত নয়। এটি এমন একটি পেশা, যেখানে নৈতিকতা, সাহস ও ধৈর্য প্রয়োজন। একজন সত্যিকারের সাংবাদিককে তার বিবেকের নির্দেশেই কলম চালাতে হয়। সাংবাদিকতা যেন মানুষের কল্যাণে হয়, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকে। অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জনের চিন্তা সাংবাদিকতার চেতনাকে ধ্বংস করে দেয়। এই অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে একসাথে দাঁড়াতে হবে। একজন সৎ ও বিবেকবান সাংবাদিক সমাজের জন্য একটি আলোকবর্তিকা।
চাঁদপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি রহিম বাদশার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, কলামিস্ট মীর আব্দুল আলীম, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি জহির উদ্দিন বাবর, চাঁদপুর জেলা তথ্য কর্মকর্তা তপন বেপারী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইকবাল বিন বাশার , জালাল চৌধুরী, বিএম হান্নান, শহীদ পাটওয়ারী, শরীফ চৌধুরী, ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, গিয়াসউদ্দিন মিলন, ঢাকাস্থ চাঁদপুর চাঁদপুর জেলা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শাহরিয়ার পলাশ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহীন, সোহেল রুশদী, মির্জা জাকির, লক্ষণ চন্দ্র সূত্রধর, রিয়াদ ফেরদৌস, আল ইমরান শোভন প্রমুখ।
