চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ঘাটে লঞ্চ থেকে মেঘনা নদীতে পড়ে গিয়ে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মৃত রবিন (৩০) নারায়ণগঞ্জে মা-বাবার সঙ্গে বসবাস থাকতেন। গত শুক্রবার তিনি মতলব উত্তরের বাগানবাড়ী ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন।
আজ শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ষাটনল লঞ্চঘাটের পাশে মেঘনা নদী থেকে বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে।
চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রাকিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী মুকবিল-২ লঞ্চে তিনি ষাটনল পৌঁছান। লঞ্চ থেকে নামার সময় তিনি নদীতে পড়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, লঞ্চে ব্যাগ ফেলে রেখেই নেমে গিয়েছিলেন রবিন। পরে আবার লঞ্চে ওঠেন তিনি। তখন নামার সময় লঞ্চটি পেছনের দিকে চলতে শুরু করলে ঘাটে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন।
এ ঘটনার পর মুকবিল-২ লঞ্চটি দ্রুত মোহনপুর লঞ্চঘাটের দিকে চলে যায়। পরে মোহনপুর নৌ-পুলিশ লঞ্চ এবং এর মাস্টার মনির হোসেন (৫০) ও গ্রিজার মো. সুমন মিয়াকে (২৭) আটক করে।
এ তথ্য নিশ্চিত করে বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক জানান, রবিনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার মামলার জন্য এজাহার দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, নদীতে পড়ে গিয়ে যুবক নিখোঁজের খবর পেয়ে বেলতলী নৌ-পুলিশ, মোহনপুর নৌ-পুলিশ ও মতলব উত্তর থানা পুলিশ স্থানীয়দের নিয়ে নদীতে তল্লাশি শুরু করে। পরে চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।
নিখোঁজ রবিনের পরিচয় মেলে তার ব্যাগ থেকে। নদীতে ভাসতে থাকা ব্যাগের ভেতরে থাকা মোবাইল ফোনের সিমকার্ড অন্য ফোনে দিয়ে বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি থেকে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করেন রবিনের স্ত্রী নাসরিন। তিনি জানান, নম্বরটি তার স্বামী রবিনের।
নাসরিন বলেন, ‘বুঝতে পেরে আমি লঞ্চঘাটে ছুটে যাই। অপেক্ষা করলাম স্বামীর জন্য। এখন আমার কী হবে? কেউ কি তাকে সঙ্গে সঙ্গে উঠাতে পারল না।’
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রবিন ও নাসরিন দম্পতির সাড়ে ৪ বছর বয়সের এক মেয়ে আছে।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সঙ্গে কথা বলে উদ্ধার কার্যক্রমের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে।’
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর ডুবুরি দল নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু কহয়। নদীর স্রোতের কারণে ভাটির দিকেও তল্লাশি চালানো হয়।’
