ঢাকাশনিবার , ১০ অক্টোবর ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মালয়েশিয়ায় বেতন কাঠামোর পরিবর্তন: ২০২৭ সাল থেকে সর্বনিম্ন মজুরি ২,০০০ রিঙ্গিত

Chandpur Tribune
অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মালয়েশিয়া সরকার ঘোষণা দিয়েছে, স্থানীয়দের পাশাপাশি এখন থেকে সব বিদেশি শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক বেতন হবে ২,০০০ রিঙ্গিত। আগে যেখানে সর্বনিম্ন বেতন ছিল ১,৭০০ রিঙ্গিত, সেখান থেকে সরাসরি ৩০০ রিঙ্গিত বাড়িয়ে নতুন এই মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সংসদে দেশের ২০২৭ সালের বাজেট পেশকালে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

​ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন এই বর্ধিত মজুরি কাঠামোর সুযোগ পাবেন দেশের সর্বস্তরের কর্মীরা, যা কার্যকর হবে আগামী ২০২৭ সালের জুন মাস থেকে।

​প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাঁর বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির প্রায় ৪০ লাখেরও বেশি শ্রমিক ও কর্মী প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

মালয়েশিয়া ন্যূনতম বেতন ২,০০০ রিঙ্গিত, ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর মালয়েশিয়ার স্থানীয় শ্রমিকদের পাশাপাশি সব বিদেশি শ্রমিকদের মাসিক মজুরি বর্তমান ১,৭০০ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ রিঙ্গিত করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সংসদে দেশের ২০২৭ সালের বাজেট পেশ করার সময় এই বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। যেটি কার্যকর হবে ২০২৭ সালের জুন থেকে। তিনি বলেন, নতুন এই হারের ফলে চল্লিশ লাখেরও বেশি কর্মী উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার ন্যূনতম মজুরির নিয়ম বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বাংলাদেশ, নেপাল ইন্দোনেশিয়া এবং অন্যান্য দেশের কর্মীরা মালয়েশিয়ার কর্মীদের মতোই একই আইনসম্মত ন্যূনতম মূল মজুরি পাওয়ার অধিকারী।

মালয়েশিয়া ২০১৩ সালে তার ন্যূনতম মজুরি নীতি চালু করে, যেখানে মাসিক মজুরি ৯০০ রিঙ্গিত নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে তা বেড়ে ১,০০০ রিঙ্গিত, ২০১৯ সালে ১,১০০, ২০২০ সালে ১,২০০, ২০২২ সালে ১,৫০০ এবং ২০২৫ সালে ১,৭০০ হয়। সর্বশেষ এই বৃদ্ধির ফলে ন্যূনতম মজুরি তার মূল হারের দ্বিগুণেরও বেশি হবে।

আনোয়ার ইব্রাহিম ঘোষণা করেছেন যে, বার্ষিক টার্নওভার ৫০ মিলিয়ন রিঙ্গিতের কম এমন ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি আকারের শিল্পোদ্যোগগুলো নতুন এই শর্ত থেকে অব্যাহতি পাবে। এই অব্যাহতির উদ্দেশ্য হলো ছোট ব্যবসাগুলোকে তাদের ব্যবসায়িক মডেল সমন্বয় করার জন্য সময় দেওয়া।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ও তাদের মজুরির মধ্যকার ব্যবধান আমাদের কমাতে হবে। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির সঙ্গে আয় তাল মেলাতে ব্যর্থ হওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয়ভার বেড়েছে। দেশের মজুরি কাঠামো উন্নত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সরকার আধা-দক্ষ কর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের জন্য ন্যূনতম মাসিক বেতন ২,৫০০ রিঙ্গিত নির্ধারণ করার পরিকল্পনাও করছে।

আনোয়ার বলেন, ন্যূনতম মজুরি শ্রমিকদের আয়ের কেবল একটি সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করে। দক্ষ শ্রমিকদের এখনও তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে না। সরকার অনিবন্ধিত বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ রোধ করতে কর বিধিমালা কঠোর করারও পরিকল্পনা করছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থা অনুযায়ী, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য সংস্থাগুলোকে মজুরি ব্যয়ের ওপর কর ছাড়ের যোগ্যতা অর্জনের জন্য কর্মসংস্থান আইনে অনুমোদিত পদ্ধতি ব্যবহার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মজুরি পরিশোধ করতে হবে।

মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছেন প্রবাসী শ্রমিকরা, যার একটি বিশাল অংশজুড়ে রয়েছেন নেপালি নাগরিকরা। শ্রমজীবী এসব মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এবার নতুন আশার আলো দেখা যাচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।