ধর্মতলায় ২৪ জুলাই ছাত্র আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মারধর ও ছিনতাইয়ের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে শনিবার বিকেল ৩টায় কলকাতা প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিক, চিত্রসাংবাদিক ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যরা।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা প্রেসক্লাবের সভাপতি স্নেহাশিস সুর, সম্পাদক কিংশুক প্রামাণিক, সাংবাদিক নিতাই মালাকার, মৌপ্রিয়া, দিলীপবাবুসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৪ জুলাই ধর্মতলায় প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে বামপন্থী বিভিন্ন ছাত্র-যুব সংগঠনের আন্দোলন চলাকালে পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলায় কয়েকজন সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। এছাড়া তাঁদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং নারী সাংবাদিকদের সঙ্গেও অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে।
প্রতিবাদসভায় বক্তারা বলেন, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। সংবাদ সংগ্রহের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।
বক্তারা আরও জানান, আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের খোঁজখবর নিয়েছেন। এ জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁরা বলেন, প্রশাসন ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কোনো কর্মসূচির আড়ালে যাতে দুর্বৃত্তরা ঢুকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে দলগুলোকেও সতর্ক থাকতে হবে।
কলকাতা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, আগামী সোমবার দুপুর আড়াইটায় রাজ্যপালের কাছে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের সব জেলার সাংবাদিকদের ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বাড়াতে প্রেসক্লাবের উদ্যোগে সাংবাদিকদের জন্য পরিচয়সংবলিত জ্যাকেট প্রদানের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেন সাংবাদিকরা। তাই তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্ব। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা।
