ঢাকারবিবার , ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চাঁদপুরে ধর্মান্তরিত স্ত্রীর আত্মহত্যা, শাশুড়ি আটক

চাঁদপুর ট্রিবিউন
ডিসেম্বর ৭, ২০২৫ ৪:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে মানতে না পেরে ধর্মান্তরিত প্রথম স্ত্রী মরিয়ম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় আত্মহত্যাকারী ধর্মান্তরিত স্ত্রী চিরকুটে শশুর-শাশুড়ি, স্বামী ও তার সতীনের নাম উল্লেখ করে গেছেন।

৬ ডিসেম্বর শনিবার বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার আশিকাটি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম সেন গাঁও গ্রামের প্রধানিয়া বাড়ি থেকে চাঁদপুর সদর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার মোঃ ফেরদৌস প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাশুড়ি কুলসুমা বেগমকে থানায় নিয়ে আসেন।

জানা যায়, পশ্চিম সেন গাঁও গ্রামের প্রধানিয়া বাড়ির শাহাদাত হোসেন প্রধানিয়া প্রায় ১৫ বছর পূর্বে একই এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী বিপ্লব সরকারের মেয়ে ঝুমুর সরকারকে ধর্মান্তরিত করে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ করে। সেই থেকে ঝুমুর সরকার থেকে তার নাম হয় মরিয়ম। এর পর থেকে মরিয়মের সাথে সনাতনি বাবা মায়ের কোনো সম্পর্ক নেই।

স্বামী শাহাদাত প্রধানিয়া করোনার সময় প্রথম স্ত্রী মরিয়মকে না জানিয়ে শহরের মঠখোলা এলাকার সাথী নামের এক নারীকে বিয়ে করে বলে ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ মহসিন মৃধা জানান। এ নিয়ে শাহাদাত ও তার স্ত্রী মরিয়মের সাথে প্রায় সময় পারিবারিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে শাহাদাত মালোশিয়া চলে যাবে বলে তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাথিকে ঘরে তুলতে চেষ্টা চালায়।

এসব বিষয় নিয়ে কলহের জেরে মরিয়ম শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যা পূর্বে মরিয়ম একটি চিরকুট লিখে রেখে গেছেন। মরিয়মের লাশ ঝুলন্ত রেখে তার স্বামী শাহাদাত হোসেন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। মরিয়ম তার আত্মহত্যার জন্য স্বামী সাহাদাত হোসেন, সতীন সাথি আক্তার, শাশুড়ি কুলসুমা বেগম ও শশুরকে দায়ী করে চিরকুট লিখে গেছে। পুলিশ চিরকুট উদ্ধার করেছেন।

আত্মহত্যার খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করতে গেলে বাড়ির লোকজন মরিয়মের লাশ আনতে কিছুটা বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করে। পরে চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মিন্টু দত্ত ও সেকেন্ড অফিসার ফেরদৌস সঙ্গীয় সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরিয়মের লাশ ময়না তদন্তের জন্য উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। একই সাথে মরিয়মের শ্বাশুড়ি কুলসুমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মিন্টু দত্ত বলেন, ‘কুলসুমা বেগম নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। আর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।