জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে লঞ্চভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এতে এ পথে কমতে শুরু করেছে যাত্রী চলাচলা। লোকসানের কারণে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে লঞ্চের সংখ্যা ও শিডিউল। মালিকদের দাবি, প্রতিটি লঞ্চে দৈনিক ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে ঢাকা থেকে চাঁদপুরগামী লঞ্চগুলোতে নতুন ভাড়ার তালিকাও টানানো হয়েছে।
লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেকের পাশাপাশি শোভন শ্রেণি ও কেবিনের ভাড়াও সেবার ধরন অনুযায়ী সমন্বয় করা হয়েছে। ডেক শ্রেণির ভাড়া ২০ টাকা বাড়িয়ে ২০০ থেকে ২২০ টাকা করা হয়েছে।
এর আগে, ১০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বের নৌপথে প্রতি কিলোমিটারে লঞ্চভাড়া ছিল ২ টাকা ৯৫ পয়সা। নতুন সিদ্ধান্তে তা ২৩ পয়সা বাড়িয়ে ৩ টাকা ১৮ পয়সা করা হয়েছে। সে হিসাবে ৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-চাঁদপুর নৌপথে ভাড়া দাঁড়ায় প্রায় ২১৬ টাকা। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ২২০ টাকা।
এদিকে বিভিন্ন কারণে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে দিন দিন যাত্রীসংখ্যা কমছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির তুলনায় ভাড়া সমন্বয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যাত্রীরা।
তাদের দাবি, যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে লঞ্চভাড়া সহনীয় পর্যায়ে রাখার বিষয়টি মালিকপক্ষকে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে।
যাত্রী আব্দুল মালেক জানান, লঞ্চভাড়া এমনিতেই বেশি। এর মধ্যে আবার ভাড়া বাড়ানো হলে আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে। আমরা আগের ভাড়া বহাল রাখার দাবি জানাই। ভাড়া না কমালে আমরা আর লঞ্চে যাতায়াত করব না।
লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি দ্বীন মোহাম্মদ জিল্লু জানান, তেলের দাম বাড়ার কারণে লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এক্ষেত্রে লঞ্চ মালিকদের কিছু করার নেই। অনেক লঞ্চ মালিক ভর্তুকি দিয়ে লঞ্চ পরিচালনা করছেন। এমনিতেই চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে যাত্রী অনেক কমে গেছে। ভাড়া বাড়ানোর প্রভাব এতে আরও পড়বে। দিন দিন যাত্রী কমে যাওয়ায় এরই মধ্যে অনেক লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) বাবু লাল বৈদ্য জানান, আবহাওয়া ও নদীর নাব্যসহ বিভিন্ন কারণে লঞ্চে যাত্রীর সংখ্যা দিন দিন কমছে। বর্তমানে যে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, এর প্রভাব যাত্রী সংখ্যার ওপর পড়ছে কি না, তা কয়েকদিন না গেলে বোঝা যাবে না। লঞ্চের সেবার মান উন্নত করা এবং ভাড়া কমানো হলে আবারও যাত্রীর সংখ্যা বাড়তে পারে।
