মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে এক নারীর বিরুদ্ধে তার স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে ফেলার ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার রাত ২টার দিকে এই নির্মম ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত নারী কল্পনা বেগম (২৫) ঘটনার পর পালিয়ে গেলেও এলাকাবাসীর হাতে অবশেষে ধরা পড়ে। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে পুনরায় গ্রামে ফিরলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে মতলব উত্তর থানা পুলিশ এসে কল্পনাকে হেফাজতে নেয়।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কল্পনা জানান, তার স্বামী মো. উজ্জ্বল তাকে প্রতারণা করে বিয়ে করেন।
তার অভিযোগ—উজ্জ্বলের আগেও দুই স্ত্রী ছিল, এবং কল্পনাকে বিয়ের পরও আরেকটি বিয়ে করেন তিনি। কল্পনার দাবি, স্বামী তার ও তাদের দেড় বছরের মেয়ে রোজা আক্তারের খরচ পর্যন্ত দিতেন না, বরং শারীরিক নির্যাতন চালাতেন।
কল্পনা আরও জানান, তিনি স্বামীকে ডিভোর্স চাইলে উজ্জ্বল তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং অপমানজনক কথা বলেন। এসব কারণেই তিনি রাগের মাথায় এই ভয়ংকর কাজ করেন বলে স্বীকার করেছেন।
কল্পনার ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন রাতে স্বামী তাকে বাড়িতে নিয়ে গেলে ঘুমিয়ে পড়ার পর ব্লেড দিয়ে তার গোপনাঙ্গ কেটে দেন এবং পরে তা বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দেন।
৩৫ বছর বয়সী মো. উজ্জ্বল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার চওড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কল্পনার দ্বিতীয় স্বামী।
এক বছর আগে কল্পনার সঙ্গে বিয়ে হয় উজ্জ্বলের। বিয়ের পর থেকে দুজনে চওড়াপাড়ায় বসবাস করছিলেন। কিছুদিন আগে কল্পনা তাকে নিয়ে বাবার বাড়ি চাঁদপুরে আসেন এবং সেখানেই থাকতে শুরু করেন।
সোমবার রাতে কল্পনা যখন স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেয়, তখন উজ্জ্বলের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন।
স্থানীয়রা উজ্জ্বলের তৃতীয় স্ত্রী ফারজানাকে ফোনে বিষয়টি জানান। ফারজানা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় উজ্জ্বলকে উদ্ধার করে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও স্পর্শকাতর। অভিযুক্ত কল্পনা বেগমকে আটক করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে তিনি নিজের দায় স্বীকার করেছেন। আমরা ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছি এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
