চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মাদরাসা পড়ুয়া ছাত্র হাফেজ সাইমনকে (১৬) হত্যার দায়ে অন্যতম সন্দেহজনক আসামী মো. ইকবাল হোসেন সর্দারকে (৩০) আটক করেছে র্যাব-৭।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল হত্যা মামলার পলাতক আসামী মোঃ ইকবাল হোসেনকে চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানাধীন সিপিজেড এলাকা থেকে বুধবার (২ অক্টোবর) রাতে আটক করে।
আটক ইকবাল হোসেন হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন সর্দার বাড়ীর মৃত জিতু মিয়ার ছেলে।
আটক ইকবাল হোসেন সর্দার হাজীগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ছিলেন।
ইকবাল সহ এ মামলায় দুজনকে আটক করা হলো। এর পূর্বে পুলিশ টোরাগড় এলাকার ভুট্রো নামে একজনকে আটক করে।
গত ৮ আগস্ট জনভীতি সৃষ্টি ও পরিবহনে চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে বিএনপি থেকে বহিস্কার করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক।
অভিযোগসূত্রে জানাগেছে, নিহতের মামা সাইফুল ইসলাম তার আর্জিতে উল্লেখ করেন ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে এশার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথিমধ্যে কুমিল্লা টু চাঁদপুরগামী মহাসড়কের রাস্তার উপর পৌঁছামাত্র গ্রেফতার কৃত আসামী ইকবাল হোসেন সহ অন্যান্য বিবাদীরা হাতে লাঠিসোটা, দা, কিরিছ, হকস্টিক, ইট এবং কাচের বোতল দিয়ে বেআইনী জনতাবদ্ধে আবদ্ধ হইয়া দুইপক্ষ দাঙ্গা হাঙ্গামায় লিপ্ত হয়ে বাজারে এলোপাথারী, দোকানপাট ভাংচুর ও মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে এবং বিভিন্ন পথচারীকে আক্রমন করে। দুষ্কৃতিকারীরা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া করতে থাকে। এক পর্যায়ে সাইমন দৌড়াইয়া ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় গ্রেফতারকৃতরা হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র দিয়ে এলোপাথারী কোপাইয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করলে মাটিতে লুটাইয়া পড়ে।
ওইসময় সাইমনের শোর চিৎকারে স্থানীয় অজ্ঞাতনামা লোকজন দ্রুত হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রেফার করলে শারীরিক অবস্থা আরো আশঙ্কা জনক দেখে ঢাকায় রেফার করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১/০৯/২৪ ইং তারিখ রাত ২০.০০ ঘটিকার সময় বাদীর সাইমন (২০) কে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষনা করেন।
পরবর্তীতে সাইমুনের পরিবার বাদী হয়ে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ থানায় ১৮৬০ সালের দন্ডবিধি আইনের ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে, যার মামলা নং ১৪ তাং ২২/০৯/২০২৪.
র্যাব-৭,সিপিএসসি পলাতক আসামীকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখার পর আটক করতে সক্ষম হয়।
