চাঁদপুরের হাইমচরে যৌথ অভিযান চালিয়ে ৩২ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে তাঁদের মধ্যে ৩০ জনকে ১৮ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি দুই অপ্রাপ্তবয়স্ককে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযানে জব্দ করা হয়েছে প্রায় এক লাখ মিটার অবৈধ জাল, যা পরে বিনষ্ট করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে উপজেলা টাস্কফোর্সের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে উপজেলা প্রশাসন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা অংশ নেন।
মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, দেশের মূল্যবান মৎস্যসম্পদ ধ্বংসেরও কারণ। সাময়িক লাভের আশায় মা ইলিশ শিকার করলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়তে পারে জেলেদের জীবিকা ও জাতীয় অর্থনীতিতে।
প্রশাসনের এ অভিযান নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। নদীতে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ইলিশ শিকার, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি থেকে বিরত থাকা সবার দায়িত্ব। অবৈধ মাছ শিকারে কাউকে সহযোগিতা না করার পাশাপাশি আইন মেনে চলতে হবে মাছ ব্যবসায়ী, আড়তদার ও সাধারণ ক্রেতাদের
ইলিশ বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মা ইলিশ রক্ষায় শুধু প্রশাসনের অভিযান যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সবার সম্মিলিত সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।
সাময়িক লাভের আশায় নিষেধাজ্ঞা ভেঙে মা ইলিশ শিকার করলে ক্ষতির বোঝা শেষ পর্যন্ত পুরো দেশকেই বহন করতে হয়। তাই আসুন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলি, মা ইলিশ রক্ষা করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইলিশের প্রাচুর্য নিশ্চিত করতে সচেতন হই।
