সকাল ৯টা থেকে অফিস খোলার কথা। অথচ দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চাঁদপুরের হাইমচরের ৬ নম্বর চরভৈরবী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঝুলছিল তালা। ভূমিসেবা নিতে আসা সেবাগ্রহীতারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও পাননি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর দেখা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন এমন অনিয়ম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অসুস্থতার কথা জানালেও উপজেলা প্রশাসন বলছে, সরকারি কর্মঘণ্টায় অনুপস্থিতির প্রমাণ পেলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এমন চিত্রের দেখা মেলে হাইমচরের ৬ নম্বর চরভৈরবী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভূমিসংক্রান্ত জরুরি কাজ, খাজনা পরিশোধ, নামজারি ও মিসকেসের কাজে সকাল ৯টা থেকেই সেবাগ্রহীতারা অফিসে আসতে শুরু করেন। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে গেলেও প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। এ সময় কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর দেখা মেলেনি।
সেবাগ্রহীতা যুবায়ের ও রফিক মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সকাল ৯টায় অফিসে এসে বসে আছি। কিন্তু এখনো অফিস খোলেনি। জরুরি কাজে এসে সময়মতো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে দেখার কেউ নেই?
চরভৈরবী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, বিপদে আছি, তাই অফিসে যেতে পারিনি। আর নিজেও অসুস্থ। প্রতিদিন ঠিক সময়ে অফিস খোলা হয়। তবে বাকি দুই স্টাফ নিয়মিত না আসায় মাঝে মাঝে বিলম্ব হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার এ কারণে শোকজ করেছে।
হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সকাল ৯টার মধ্যে অফিস খোলার নিয়ম। সরকারি নির্ধারিত অফিস সময়ে কেউ অনুপস্থিত থাকলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে নিয়ম অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
