ঢাকারবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শাহরাস্তিতে দুই মেয়েকে রেখে নারীর উধাও, এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

Chandpur Tribune
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৫:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে দুই কন্যাসন্তানকে বাড়িতে রেখে এক নারীর এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামীর বোনজামাই জাহাঙ্গীর আলম শাহরাস্তি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে প্রায় চার ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে ওই নারী বাড়ি থেকে চলে গেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগের অন্যতম বিবাদী শেখ রহমত উল্লাহ (৩৩)। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর শাহরাস্তি পৌর শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মরিয়ম বেগম (২৮) বাদী জাহাঙ্গীর আলমের শ্যালক ইব্রাহীম খলিলের স্ত্রী। ইব্রাহীম খলিল বর্তমানে বাহরাইনে অবস্থান করছেন। তাদের ফাতেহা (১১) ও ফারহানা (৫) নামে দুই কন্যাসন্তান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, একই বাড়ির চাচাতো দেবর শেখ রহমত উল্লাহর সঙ্গে মরিয়মের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা জানতে পেরে মরিয়মের প্রবাসী স্বামীকে জানালে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেছিলেন—এমন দাবিও করা হয়েছে অভিযোগে।

লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মরিয়ম দুই সন্তানকে নিয়ে রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ছোট মেয়ে ফারহানার ঘুম ভেঙে গেলে সে মাকে ডাকতে থাকে। কোনো সাড়া না পেয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা এসে মরিয়মকে ঘরে দেখতে পাননি।

বাদীর অভিযোগ, একই সময়ে শেখ রহমত উল্লাহকেও বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাদের মধ্যে যোগসাজশ রয়েছে এবং তারা দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে চলে গেছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় মরিয়ম প্রায় চার ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য নয় লাখ টাকা, নগদ দুই লাখ টাকা এবং ব্যবহৃত কাপড়চোপড় সঙ্গে নিয়ে গেছেন। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাদের সন্ধান পাননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, রাত আনুমানিক ২টার পর দোয়াভাঙ্গা এলাকায় তিনি শেখ রহমত উল্লাহকে এক নারীর সঙ্গে একটি প্রাইভেটকারে ঢাকা অভিমুখে যেতে দেখেছেন।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা শেখ রহমত উল্লাহকে ঘিরে বিভিন্ন আলোচনা থাকার দাবি করেছেন। তবে এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে শেখ রহমত উল্লাহর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং অভিযোগে উল্লেখ করা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নেওয়ার দাবির সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।