চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডকে আরও উন্নত, আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ্ব মো. আকবর হোসেন।
প্রস্তাবিত মাস্টারপ্ল্যানে নতুন সড়ক নির্মাণ, মাটি ভরাট, আরসিসি সড়ক, ড্রেন নির্মাণ, রাস্তার বাতি স্থাপন এবং সেতু-কালভার্ট নির্মাণসহ মোট ৯টি উন্নয়ন কাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪ হাজার মিটার বা ৪ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সড়ক মাটি ভরাটের মাধ্যমে নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশে আরসিসি করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের পশ্চিম-উত্তর কর্ণার থেকে ডাকাতিয়া নদীর পাড় পর্যন্ত আনুমানিক ৫০০ মিটার সড়ক নির্মাণের কথা রয়েছে।
ফয়সালের রাস্তা থেকে মহিউদ্দিন বেপারী বাড়ি ও শওকতকার বাড়ির মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে মাটি ভরাট করে প্রায় ৩০০ মিটার নতুন সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া সি অ্যান্ড বি সড়ক থেকে আমিন বেপারীর বাড়ি ও সোলেমান বেপারীর বাড়ির মধ্য দিয়ে হাছান মিয়া ও হাজরী বাড়ির মধ্যবর্তী স্থান হয়ে ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সি অ্যান্ড বি রোড থেকে চৌধুরী বাড়ির উত্তর পাশ, সৈয়দউদ্দিন বেপারী বাড়ি হয়ে কেয়ার রাস্তা পর্যন্ত মাটি ভরাট ও প্রায় ৩০০ মিটার সিসি সড়ক নির্মাণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
মমতাজ হাজীর কবরস্থান থেকে সিরাজ মিয়ার বাড়ির উত্তর পাশ দিয়ে সেলিম প্রফেসর বাড়ি ও জলিল বেপারী বাড়ির মধ্যবর্তী স্থান হয়ে প্রায় ৩৫০ মিটার মাটি ও আরসিসি দ্বারা সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। একইভাবে ভূঁইয়া বাড়ি ও আলহাজ্ব মিয়ার পৌর রাস্তা থেকে সিরাজ মিয়ার বাড়ির পশ্চিম পাশ দিয়ে ভূঁইয়া ও পাটওয়ারী বাড়ির পূর্ব পাশ হয়ে সেলিম প্রফেসর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৮০০ মিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পাটওয়ারী বাড়ি ও সেলিম প্রফেসর বাড়ির মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে প্রায় ১৫০ মিটার মাটি ও আরসিসি সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। সিরাজ মিয়ার বাড়ির দুই পুকুরের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে আরসিসি পানালসিটিং ও মাটি দিয়ে প্রায় ২০০ মিটার সড়ক নির্মাণ এবং মমতাজ হাজী বাড়ির এলাকায় আরসিসি পানালসিটিং ও মাটি ভরাটের আরও প্রায় ২০০ মিটার কাজের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।
উন্নয়ন পরিকল্পনায় সড়কের পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন নির্মাণের কথাও রয়েছে। পরিকল্পনার নকশায় মেরুন বা গাঢ় রঙের লাইন দিয়ে ড্রেন নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। হলুদাভ-সবুজাভ চিহ্ন দিয়ে নতুন রাস্তার বাতি স্থাপনের পরিকল্পনা এবং নীল চিহ্ন দিয়ে নতুন সেতু বা স্পট ব্রিজ নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান নির্দেশ করা হয়েছে।
সাবেক কাউন্সিলর আকবর হোসেনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওয়ার্ডের অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোকে প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সঙ্গে সংযুক্ত করার পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নতুন রাস্তা, ড্রেন, সেতু ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল ও যোগাযোগে সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
পরিকল্পনাটিতে ১১ নম্বর ওয়ার্ডকে আরও উন্নত, সড়ক-ড্রেন ও আলোকসুবিধাসম্পন্ন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘শান্তিময়, মাটি ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার’-এর কথাও উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ওয়ার্ডের অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ, পানি নিষ্কাশন, রাতের আলোকসজ্জা এবং বিভিন্ন এলাকার পারস্পরিক যোগাযোগে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
