চিকিৎসক সংকট, শূন্য পদ আর একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি অচল—এভাবেই চলছে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে অনুমোদিত ২১৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১০৫ জন। শূন্য রয়েছে ১০৮টি পদ। এর মধ্যে চিকিৎসকের গুরুত্বপূর্ণ পদও রয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, সার্জন ও অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসকের সংকটে প্রায় দুই মাস ধরে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। অপারেশনের প্রয়োজনীয় রোগীদের বাধ্য হয়ে অন্যত্র যেতে হচ্ছে। এতে রোগীদের বাড়তি অর্থ, সময় ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসক ও নার্স সংকটের পাশাপাশি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শূন্য। ফলে হাসপাতালের নিয়মিত সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমেও চাপ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়েও দেখা দিয়েছে সংকট। প্রায় এক মাস ধরে সিবিসি ও অটোক্লেভ মেশিন নষ্ট রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অচল আধুনিক জেনারেটর। প্রায় এক বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে সন্ধ্যার পর হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ অন্ধকারে পড়ে যায়। দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকটও রয়েছে।
শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়েও রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ রয়েছে। দালালের দৌরাত্ম্য, অনুমোদনহীন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের দখলদারিত্ব, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভিড় এবং চুরি-ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সম্প্রতি এক চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে সদ্য যোগদান করা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবু নাছের শাকিল জানান, হাসপাতালের পরিবেশ ও সেবার মান উন্নয়নে কাজ শুরু হয়েছে। নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের গাফিলতির বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয়দের দাবি, জনবল ও চিকিৎসক সংকট দ্রুত দূর করার পাশাপাশি নষ্ট যন্ত্রপাতি সচল, অস্ত্রোপচার কার্যক্রম পুনরায় চালু এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় সরকারি এই চিকিৎসাকেন্দ্রে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
