ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) উপপরিদর্শক আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার জহিরুল ইসলাম সাভারের বড়দেশি এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। ঘটনার সূত্রপাত হওয়া প্রাইভেটকারটির মালিক ও চালক হিসেবে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতের দিকে আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় একটি গাড়ি রাখা এবং অটোরিকশার চলাচলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তিকে মারধর করা হলে ঘটনাস্থলে থাকা এসবির এসআই আলতাফ হোসেন এর প্রতিবাদ করেন।
একপর্যায়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে আলতাফ হোসেনের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে হামলাকারীরা তাকে মারধর করে। আত্মরক্ষার জন্য তিনি তার ছেলের মালিকানাধীন একটি গেঞ্জি কারখানায় আশ্রয় নেন। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা সেখানে গিয়েও আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুল ইসলামকে মারধর করে এবং কারখানায় ভাঙচুর চালায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে আরিফুল ইসলামও হামলায় আহত হন।
এ ঘটনায় নিহত আলতাফ হোসেনের স্ত্রী শিউলি বেগম বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সাভার মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার জহিরুল ইসলামের কাছ থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
