চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় একের পর এক ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনায় মামলা না করায় মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত দুমাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৫টি ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২২টি পৃথক ঘটনায় মামলা করার জন্য চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে থানায় আবেদন করা হলেও কোনও মামলা রুজু করা হয়নি বলে আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর মতলব উত্তর আমলী আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহ থানার ওসিকে শোকজ করেন। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর তাকে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আদালত থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিচারক এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘মতলব উত্তরে ট্রান্সফর্মার চুরির হিড়িক’ শীর্ষক সংবাদ আমলে নিয়ে চুরি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা জানতে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) ও মতলব উত্তর থানার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।
আদালতের নির্দেশের পর চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, মতলব উত্তর থানা এলাকায় সংঘটিত প্রতিটি ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনায় থানার ওসির কাছে মামলা দায়েরের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। তবে আদালতের আদেশ দেওয়ার আগ পর্যন্ত ২২টি পৃথক চুরির ঘটনায় কোনো মামলা রুজু করা হয়নি।
এ ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করে আদালত বলেন, বিদ্যুতের মতো জরুরি সেবার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি করা একটি গুরুতর অপরাধ। এসব ঘটনায় মামলা রুজু করে চুরি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, একের পর এক ট্রান্সফর্মার চুরি হলেও মামলা রুজু না করা এবং চুরি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি গুরুতর।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মতলব উত্তর থানার ওসিকে শোকজ করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহ। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ওসিকে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে উপস্থিত হয়ে চুরি প্রতিরোধে নিষ্ক্রিয়তার কারণে তার বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ আদেশ দেয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুমাসে মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের একের পর এক ট্রান্সফর্মার চুরি হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ গ্রাহকেরা।
