চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪ নম্বর শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’-এর তথ্য সংগ্রহকারী নির্বাচনের তালিকা প্রকাশের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকাশিত তালিকায় ৮ নম্বরে থাকা শাকিল গাজী বর্তমানে একটি হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে। অথচ তাকেই সরকারি কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্য অনুযায়ী, শাহমাহমুদপুরের প্রবাসী শাহজাহান পাটোয়ারী নিহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় শাকিল গাজীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা যায়।
অন্যদিকে, সরকারি প্রকাশিত তালিকায় শাকিল গাজীর পিতার নাম আলফু গাজী, গ্রাম লোধেরগাঁও উল্লেখ করে তার নামের পাশে ‘চূড়ান্ত নির্বাচিত’ লেখা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আর্থিক অবস্থা, আয়-ব্যয়সহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করার কথা। ফলে দায়িত্ব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়, ঠিকানা, যোগ্যতা ও আইনগত অবস্থান যাচাই করা হয়েছিল কি না—এখন সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।
স্থানীয়দের দাবি, একজন ব্যক্তি যদি হত্যা মামলায় কারাগারে থাকেন, তাহলে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্বের জন্য তার নাম কীভাবে চূড়ান্ত তালিকায় এল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’ নির্বাচন কমিটির সভাপতি এসএম জামিউল হিকমা জানান, শাকিল গাজী ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে এবং অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে অন্য কাউকে নেওয়া হবে।
তবে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগেই প্রার্থীদের আইনগত অবস্থান যাচাই করা হয়েছিল কি না এবং যাচাই-বাছাইয়ের পরও এমন অসঙ্গতি কীভাবে তৈরি হলো—তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তির নাম তালিকাভুক্ত হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী নির্বাচন ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
