ঢাকাবুধবার , ২৯ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শাহরাস্তিতে তোলপাড়! আটক মাদক কারবারির মোবাইলে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে চ্যাট-ভয়েস ক্লিপের অভিযোগ

Chandpur Tribune
জুলাই ২৯, ২০২৬ ১০:৩৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার আয়নাতলী এলাকায় জনতার হাতে আটক এক কথিত মাদক কারবারির মোবাইল ফোনে একাধিক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথোপকথন, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ভয়েস ক্লিপ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ঘিরে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে স্থানীয়রা মাদক ব্যবসার অভিযোগে মিজানুর রহমানকে আটক করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান। সেখানে উপস্থিত লোকজন তার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে একাধিক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথোপকথন ও চ্যাট দেখতে পান বলে দাবি করেন। পরে ভবিষ্যতে আর মাদক ব্যবসায় জড়াবেন না—এমন অঙ্গীকার করে ক্ষমা চাইলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়ভাবে ধারণ করা ভিডিওতে এসআই আরিফ হোসেন, এসআই মিঠু দাস, এএসআই সহিদুল্লাহ, এএসআই এরশাদ মিয়া, এসআই রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ সদস্য শরিফুল ইসলামের সঙ্গে কথোপকথন, ভয়েস ক্লিপ ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থাকার দাবি করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকটি ভয়েস ক্লিপে অর্থ লেনদেনের বিষয় উঠে এসেছে। একটি ক্লিপে শোনা যায় বলে দাবি করা হয়, “ভাই, বিকাশে খরচসহ ১০ হাজার টাকা পাঠিয়েছি।” অন্য একটি কথোপকথনে “১০ হাজার ২০০ টাকা দিয়েছি, বাকিটা পরে দেব” এবং আরেকটিতে “৫ হাজার ১০০ টাকা খরচসহ দিয়েছি”—এমন বক্তব্য রয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়া একটি চ্যাটে “আগামীকালের মধ্যে ৫০ শেষ করবি”—এমন বার্তাও পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

আটকের পর মিজানুর রহমান দাবি করেন, তিনি নিয়মিত কয়েকজনকে মাসোহারা দিতেন এবং তার ৪১ জন নিয়মিত ক্রেতা রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
এলাকাবাসীর প্রতিনিধি সালেহ আহমেদ বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেই যদি এমন অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? ইউপি চেয়ারম্যান জোবায়েদ কবির বাহাদুর বলেন, মিজানুর রহমানকে আগেও আটক করে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল এবং সতর্ক করার পরও তিনি আবার মাদক ব্যবসায় জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “যেসব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। কোনো পুলিশ সদস্যের মাদক কারবারির সঙ্গে সম্পর্ক থাকা উচিত নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর দাবি, মোবাইলে পাওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।