চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫নং সদর ইউনিয়নের সাতবাড়ীয়া কৈয়ারপুল এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, চাঁদাবাজি, মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে, ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই একটি পাঁচতলা বিশিষ্ট হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ চলাকালে কয়েকজন যুবক সেখানে গিয়ে কাজে বাধা দেয় এবং চাঁদা দাবি করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রথমে একটি পিকআপ ভ্যান নির্মাণকাজের প্রবেশপথে রেখে শ্রমিকদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। শ্রমিকরা গাড়িটি সরানোর অনুরোধ করলে অভিযুক্তরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় ভবনের মালিক ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে দ্রুত চাঁদা পরিশোধ না করলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ওই দিন সন্ধ্যায় হাজীগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়। এজাহারে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা সন্ধ্যার পর নিয়মিত কৈয়ারপুল এলাকায় এসে গভীর রাত পর্যন্ত মাদক বিক্রি ও সেবন করে এবং স্থানীয়দের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, “আমাদের কাছে একটি এজাহার এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা এ বিষয়ে এখনও কোনো বক্তব্য দেননি। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
