চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ১নং রাজারগাঁও ইউনিয়নের মেনাপুর বাজারে অবস্থিত পীর বাদশা মিয়া (রহ.) নুরানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার জন্য ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে সরকারি জি’আর (GR) কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ হওয়া ২ টন চালের মধ্যে মাত্র ১ টন প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাকি ১ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ১নং রাজারগাঁও ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলমগীর কাজীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়ন তহবিল ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তাদের ভাষ্য, একটি মসজিদের বার্ষিক সম্মানীর বরাদ্দ অন্য ওয়ার্ডে দেওয়া এবং ৭নং ওয়ার্ড পঞ্চায়েত বাড়ি জামে মসজিদের উন্নয়ন তহবিল ব্যবহারে অনিয়ম নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
মাদ্রাসা ও এতিমখানার পরিচালক মাওলানা মুফতি মো. শাহাদাত হোসাইন জানান, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এর মধ্যে ৯০ জন আবাসিক ছাত্র, ৬০ জন ছাত্রী এবং বাকিরা নিয়মিত শিক্ষার্থী। নুরানী, নাজেরা ও হিফজুল কোরআন বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি জানান, গত বছর বেফাক বোর্ডের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী হাফেজ মো. আব্দুল্লাহ জামি সারা বাংলাদেশে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে, যা হাজীগঞ্জ ও চাঁদপুরবাসীর জন্য গৌরবের বিষয়। তবে বর্তমানে ১১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা, এতিম শিক্ষার্থীদের খাদ্য ও আবাসনের ব্যয় নির্বাহে প্রতিষ্ঠানটি চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় অভিভাবক, সচেতন নাগরিক ও পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা প্রতিষ্ঠানটির জন্য নিয়মিত সরকারি খাদ্য সহায়তা, একটি আধুনিক একাডেমিক ভবন, উন্নত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য আলমগীর কাজী বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। আমি কোনো ধরনের অনিয়ম বা আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত নই।”
প্রতিষ্ঠানটির জমি দান করেন উপজেলার রামরা গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবক মরহুম মো. আবু ইউছুব (আবু ইউসুফ)। পরবর্তীতে তাঁর তিন ছেলে—মো. ইকবাল হাসান চৌধুরী, মো. মাসুদুর রহমান ও মো. ফয়সাল চৌধুরী—যথাযথ দলিলের মাধ্যমে জমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে হস্তান্তর করেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি বরাদ্দের চাল নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এতিম ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।
