চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার অধীনে নির্মিত টোরাগড়–বড়কুল সেতু বর্তমানে অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এলজিইডির (LGED) প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন।
বড়কুল, রায়ছো ও মইশামুড়া গ্রামের বাসিন্দাদের পাশাপাশি হাজীগঞ্জ ঐতিহ্যবাহী সরকারি পাইলট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত এই সেতু ব্যবহার করেন। ফলে সেতুটির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাতের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সেতুর দুই পাশে সৌরবিদ্যুৎচালিত ৫২টি দৃষ্টিনন্দন লাইট-পিলার স্থাপন করা হয়েছিল। শুরুতে এসব লাইট সেতুর সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি করেছিল, তেমনি সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলও নিশ্চিত করেছিল।
তবে বর্তমানে ৫২টি পিলারের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ উধাও হয়ে গেছে এবং আরেকটি ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি পিলারের সৌর প্যানেল ও বাতি নষ্ট থাকায় রাতের বেলায় অনেক অংশ অন্ধকারে ডুবে থাকে। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতুর মাঝামাঝি অংশে কয়েকটি গর্তও সৃষ্টি হয়েছে, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পিলার, সৌরবাতি ও সেতুর ভাঙা অংশ সংস্কার করা হলে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন।
এদিকে সন্ধ্যার পর সেতু এলাকায় কিশোর গ্যাং, মাদকসেবী ও অসামাজিক ব্যক্তিদের আড্ডা বাড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা সেতু এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কিশোর গ্যাং ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধও নিয়ন্ত্রণে আসবে।
স্থানীয় সচেতন মহল সেতুটির দ্রুত সংস্কার, সৌরবাতি পুনঃস্থাপন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
