হাজীগঞ্জে ক্রয়কৃত সম্পত্তি বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অপ-প্রচারসহ, হুমকি-ধমকির অভিযোগে পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, ভুক্তভোগী জোৎস্না আক্তার নামের এক নারী। তিনি উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের কাকৈরতলা গ্রামের নাজির আহম্মেদ কোম্পানির স্ত্রী।
গত রোববার (২৮ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই এলাকায় বাদীর মালিকীয় সম্পত্তিতে (ভূমি) এ হুমকি-ধমকির ঘটনা ঘটে। অভিযোগে তিনি একই গ্রামের দিহিদার বাড়ির সিরাজুল ইসলাম (৬৫), মো. লিটন (৪৫), মোসা. আনোয়ারা বেগম (৫৯) ও বিথী আক্তারকে (৩০) বিবাদী করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে কাকৈরতলা মৌজার ১৭৪ নং খতিয়ানভুক্ত ৬৩৪ দাগে নাল ২৫ শতকের অন্দরে পশ্চিম অংশে বর্ণিত বিবাদী সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে ১১ শতক ও তার বোনের ২ শতকসহ ১৩ সম্পত্তি ক্রয় করেন নাজির আহম্মেদ কোম্পানি।
এরপর একই সময়ে একই মৌজার সিএস ৩৫নং, এসএ ৩৭নং বুজরত ২৮৭নং ডিপি ২৫৬নং খতিয়ানভুক্ত সিএস/এসএ ২৭৬ বিএস ৬৩১ দাগে নাল ৩ শতক সম্পত্তি বর্নিত বিবাদী সিরাজুল ইসলামের স্ত্রীর নিকট হতে ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকায় ক্রয় করেন। কিন্তু খারিজ জটিলতার কারণে এ সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করা হয়নি।
পরবর্তীতে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে না দেওয়ায় সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে আরো একলাখ টাকা বেশি নিয়ে মোট ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে খারিজ জটিলতা সমাধান হলেও বিবাদীরা একে অপরের যোগসাজশে উক্ত সম্পত্তি রেজিস্ট্রি ও দখল বুঝিয়ে না দিয়ে তালবাহানা করতে থাকেন।
বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার সালিশি বৈঠক হয়। কিন্তু বিবাদীরা কালক্ষেপন করতে থাকেন এবং সিরাজুল ইসলামের প্রতিবন্ধী ছেলের মাধ্যমে তাদেরকে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হুমকি-ধমকির অভিযোগ করা হয়। সবেশষ গত ১৫ জানুয়ারী সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হলেও বিবাদীরা আসেনি।
এরপর স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিরা ক্রয়কৃত সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণ করে খুঁটি বসিয়ে দেন। কিন্তু গত রোববার রাতে বিবাদীরা উক্ত খুঁটিগুলো ফেলে দেন। খবর পেয়ে জোৎস্না বেগম’সহ পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বিবাদীরা তাদেরকে গালমন্দ এবং হত্যার হুমকি-ধমকি দেন এবং ফেসবুকে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করেন।
এ বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য মৃত মোস্তফা মেম্বারের ছেলে আবু দাউদ জানান, আমার আব্বার উপস্থিতিতে ওই সম্পত্তি ক্রয় সংক্রান্ত লেনদেন হয়েছে। পরবর্তীতে আব্বা জীবিত থাকাবস্থায় একাধিকবার সালিশি বৈঠক হয়েছে। সবশেষ বাজার মূল্যের কথা বলে ১ লাখ টাকাও বেশি নিয়েছেন। তারপরও তিনি সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে দেন নাই।
এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাদের (সিরাজুল ইসলাম) কাজই এমন। সম্পত্তি বিক্রি করবে একজনের কাছে, পরে ওনাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সেই সম্পত্তি অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেয়। এখন, নাজির কাকাদের সাথেও এমন হয়েছে। শুনেছি এ সম্পত্তিও অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।
স্থানীয় মসজিদের সভাপতি সালেহ আহম্মেদ দিদার বলেন, তাদের (সিরাজুল ইসলাম) সম্পত্তি বিক্রি নিয়ে অনেক ঝামেলা, এমনকি মারামারি এবং পরে সমাধানও হয়েছে। এখন শুনি, নাজিরদের সাথেও এমনটি হয়েছে।
বিল্লাল হোসেন নামের অপর এক ব্যক্তি জানান, তারা (সিরাজুল ইসলাম) এধরনের কাজই করে। জায়গা বিক্রির রেজিস্ট্রি দিতে তাল-বাহানা করে। এরপর তার ছোট মেয়ে মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার (আচরণ) করে।
মোহাম্মদ হোসেন বলেন, নাজিরের কাছে সিরাজ ভাই জায়গা (ভূমি) বিক্রি করেছেন। তারা দখলেও আছে। কিন্তু খারিজের সমস্যার কারণে রেজিস্ট্রি হয় নাই। বিষয়টি নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাকে অনেকবার তাকে বলেছে, কিন্তু তিনি নাজিরকে রেজিস্ট্রি না দিয়ে, শুনছি অন্যের কাছে জায়গা বিক্রি করে দিয়েছে।
দ্বীন ইসলাম বলেন, বিষয়টি এলাকার সবাই জানে। নাজিরের ক্রয়কৃত জায়গা রেজিস্ট্রি দিতে সিরাজ ভাইকে বেশ কয়েকবার বলা হয়েছে, দরবার-কারবারও (সালিশি বৈঠক) হয়েছে। কিন্তু তিনি তাকে রেজিস্ট্রি না দিয়ে বিক্রিকৃত জায়গা অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলেকে বিদেশে নেওয়ার বিনিময়ে নাজিরের কাছে যতটুকু জায়গা বিক্রি করেছিলাম, ততটুুকুই আমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছি। এর বাহিরে কোন লেনদেন হয়নি।
সিরাজুল ইসলামের মেয়ে বিথী আক্তার বলেন, ওনার (নাজির আহমেদ) স্ত্রী’সহ কয়েকজন লোক এসেছেন জায়গা কেনার জন্য। এসে দর-দাম করে চলে গেছেন। এরপর আমাদের টাকার প্রয়োজন হলে, আমার মা তাদের আত্মীয় আলেয়ার কাছে কয়েকবার গিয়েছেন। তারা কোন সাড়া দেননি। এভাবে আমরা তিনমাস অপেক্ষা করছি।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে তারা (নাজির আহমেদ) না আসায়, আমার চাচাতো ভাই লিটনের কাছে সেই সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছি। এখন বিষয়টি জানতে পেরে তারা আমাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান বলেন, তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
