ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চাঁদপুর সরকারি গণগ্রন্থাগার বাড়ছে পাঠক

Chandpur Tribune
জুলাই ২, ২০২৬ ১২:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চাঁদপুরে সরকারি গণগ্রন্থাগার দিনদিন পাঠক বান্ধব ও জ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমানে চাঁদপুর জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারে বইয়ের সংখ্যা ২৪ হাজার ৩৬৩টি। এখানে সাধারণ জ্ঞান, সাহিত্য, একাডেমিক ও বিভিন্ন বিষয়ের বইয়ের পাশাপাশি রাখা হয় বিভিন্ন সাময়িকী ও পত্র-পত্রিকা। এর মধ্যে রয়েছে সাপ্তাহিক রোববার, সি নিউজ, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, কারেন্ট ওয়ার্ল্ড, ক্রীড়া জগত ও সানন্দাসহ বিভিন্ন প্রকাশনা।

গ্রন্থাগার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জুন মাসে পাঠক সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২২৯ জন। এর মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষার্থী। সাধারণ পাঠকরাও আসেন, তবে তাদের সংখ্যা তুলনামূলক কম। সাধারণ জ্ঞান ও সাহিত্যভিত্তিক বইয়ের পাঠকের সংখ্যাও রয়েছে উল্লেখযোগ্য।

সর্বস্তরের মানুষের পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি এবং গ্রন্থাগারের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয় রচনা প্রতিযোগিতা, হাতের সুন্দর লেখা প্রতিযোগিতা, পাঠ প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, গ্রন্থ প্রদর্শনী, ওয়ার্কশপ ও সেমিনার।

ড্যাফোডিল কলেজের শিক্ষার্থী কাইফ আহমেদ শেখ ও রাফিদুল জানান, তারা প্রায় দুই থেকে তিন মাস ধরে নিয়মিত গ্রন্থাগারে আসছেন। তারা বলেন, ‘এখানে এসে আমরা অনেক উপকৃত হচ্ছি। মূলত একাডেমিক বই পড়ার পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞান ও অন্যান্য বিষয়ভিত্তিক বইও পড়া হয়। পড়াশোনার জন্য এখানে সুন্দর পরিবেশ রয়েছে।

গ্রন্থাগারে পাঠকদের জন্য রয়েছে রেফারেন্স সেবা, সাম্প্রতিক তথ্যজ্ঞাপন, পরামর্শ, নির্বাচিত তথ্য বিতরণ, তথ্য অনুসন্ধান, পুস্তক লেনদেন, ফটোকপি এবং পুরাতন পত্রিকা সেবাসহ নানা সুযোগ-সুবিধা। পাশাপাশি বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবাও প্রদান করা হচ্ছে।

প্রায় ৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই সরকারি গণগ্রন্থাগারে রয়েছে তিনটি পাঠকক্ষ ও একটি অডিটোরিয়াম। নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি বেসরকারি গণগ্রন্থাগারসমূহকে তালিকাভুক্তিকরণ ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।

গ্রন্থাগারে শনিবার থেকে বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত পাঠকদের জন্য সেবা চালু থাকে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনেও কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক তথ্যসেবা, ই-বুক ব্যবহার এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি গণগ্রন্থাগার ভবিষ্যতে আরও কার্যকর জ্ঞানকেন্দ্রে পরিণত হবে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

চাঁদপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আলমগীর হোসাইন বলেন, ‘বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় বই পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে। সরকারি গণগ্রন্থাগারের এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের বইমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ জ্ঞান, সাহিত্য ও সৃজনশীল বিষয়েও তাদের আগ্রহ বাড়ছে, যা ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়ক হবে।’

চাঁদপুর জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান উম্মে রায়হানা ফেরদৌস বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার মধ্যে সাহিত্য আড্ডা, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য পৃথক কর্নার স্থাপন এবং স্থানীয় লোকসংস্কৃতি নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাঠকদের আরও বেশি বই পড়ার অভ্যাস বাড়াতে পাঠক বান্ধব সেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীসহ সব বয়সি মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে আমরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।