চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে তেলের গাড়ির তুলনায় গ্যাসচালিত যাত্রীবাহী বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব না থাকলেও বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের বিরুদ্ধে গ্যাসচালিত যানবাহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন যাত্রী সাধারণ। তবে সরেজমিন পরিদর্শনে বোগদাদ পরিবহনের গ্যাসচালিত একাধিক বাস পাওয়া গেলেও আইদি পরিবহনের কোন বাস পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি তেলের সরবরাহে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে গেলে দেশে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়। এরপর মে মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখলেও জুনে এসে আরেক দফা বাড়ানো হয় তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম।
ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রেখে লিটারে ৫ টাকা বেড়ে কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা ও অকটেন ১৪৫ টাকা করা হয়েছে। কিন্তু গ্যাসের দাম বাড়ানো না হলেও তিন ধরনের জ্বালানির দাম বাড়ানোর সুযোগ নিচ্ছে গ্যাসচালিত গাড়ি মালিক ও চালকরা।
ওই সময়ে প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা হারে ভাড়া বৃদ্ধি করেন, কুমিল্লা জেলা সড়ক পরিবহন মালিক। যা ২৪ এপ্রিল থেকে কার্যকর করে কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে ২ টাকা ২৩ পয়সা করা হয়। তারপর থেকে বোগদাদ ও আইদি পরিবহনে যাত্রীরা বর্ধিত ভাড়ায় চলাচল করছেন। কিন্তু গ্যাসচালিত বাসের ভাড়া বৃদ্ধি করা না হলেও তেলচালিত গাড়ির মূল্যহারেই গ্যাসচালিত বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
বুধবার দোয়াভাঙ্গা এলাকায় আইদি ও বোগদাদ পরিবহনের বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী বাসের চালক ও সুপারভাইজারদের সাথে কথা হয়। এসময় চালক ও সুপারভাইজারদের তথ্যমতে বোগদাদ পরিবহনের একাধিক গ্যাসচালিত বাস থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে আইদি পরিবহনে গ্যাসচালিত বাস পাওয়া যায়নি।
সরজমিনে বোগদাদ পরিবহনের কুমিল্লা-ব ১১-০১৩৮ ও ১১-০০৮৭ নম্বরের দুইটি বাস গ্যাসচালিত এবং ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৮৮৩৮ ও ১৪-৮২৮৩ নম্বরের তেলচালিত দুইটি বাস চলাচল করতে দেখা গেছে। একই সময়ে একাধিক আইদি পরিবহনের চলাচল করলেও গ্যাসচালিত বাস পাওয়া যায়নি।
এদিকে সরকারি বিধি অনুযায়ী পেট্রোল বা অকটেনচালিত যানবাহনে গ্যাসে রূপান্তরের পর রেজিস্ট্রেশন সনদে জ্বালানির ধরন পরিবর্তন বাধ্যতামূলক নয়, তবে সিলিন্ডারের সঠিক সনদ ও পেপারস সাথে রাখতে হবে। তবে অবশ্যই সরকারের রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি বা বিআরটিএ অনুমোদিত ওয়ার্কশপ থেকে করতে হবে।
এছাড়া গাড়িটি যদি আগে ডিজেলচালিত হয়ে থাকে, তবে অবশ্যই বিআরটিএ অফিসে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে জ্বালানির ধরন পরিবর্তন বা সংশোধন করতে হবে। অথচ এ ধরনের কোন কার্যক্রম যানবাহনের মালিকপক্ষ করেন, তা অনেকটা সন্দিহান। আবার করে থাকলেও তা নগন্য বলে জানান অনেকে।
বোগদাদ পরিবহনের তেলচালিত বাসের চালক তৌহিদুল ইসলাম ও গ্যাসচালিত বাসের সুপারভাইজার শাকিল বলেন, আমাদের কয়েকটি গ্যাসচালিত বাস রয়েছে। এসময় রাকিব’সহ আইদি পরিবহনের একাধিক চালক ও সুপারভাইজার জানান, তাদের পরিবহনে গ্যাসচালিত কোন বাস নেই।
এদিকে তেলচালিত বাসের জন্য নির্ধারিত ভাড়া গ্যাসচালিত বাসের যাত্রীদের কাছ থেকে নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান, সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন।
ওই সময়ে তিনি বলেন, গ্যাসের দাম না বাড়ায় গ্যাসচালিত কোনো যানবাহনের ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে গ্যাসচালিত যানবাহনে বেশি ভাড়া নিলে বা কোনো অনিয়ম হলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
