শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে এসব এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, অনেক জায়গায় ঝড়ে বড় বড় গাছ ভেঙে রাস্তায় ও বসতঘরের ওপরে পড়ে আছে।
লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের দেলোয়ার শেখ বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়।
দুই দিন পরে বৃহস্পতিবার রাত ২টায় বিদ্যুৎ আসে। আবার শুক্রবার সকালে চলে যায়।
আমাদের গ্রামে অনেকে কোরবানি করেননি। গ্রামের প্রতিটি ঘরে এখন রেফ্রিজারেটর আছে। অনেকেই কোরবানির মাংস নিজের ও স্বজনদের জন্য রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করেন। যে কারণে কোরবানি করেনি।
বাগাদী ইউনিয়নের নানুপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঝড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ ভেঙে সরবরাহ বন্ধ ছিল। কল করলে বিদ্যুতের লোকজন এসে গাছ কেটে লাইন স্বাভাবিক করে।

চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের নাজমুল হোসেন বলেন, ঝড়ে সড়কে ও বিদ্যুতের লাইনের ওপর বহু গাছ ভেঙে পড়ে। বিদ্যুতের লোকজনের আগে থেকে এসব গাছ কেটে সরবরাহ লাইন পরিষ্কার রাখা দরকার ছিল। পল্লী বিদ্যুতের লোকজনের কাজে অবহেলা আছে। গ্রামে অনেক ঈদ উৎসব করতে এসে ভোগান্তিতে পড়েছে।
একই গ্রামের বাসিন্দা মাইনুল ইসলাম বলেন, আমাদের ইউনিয়নের মদনা, দক্ষিণ বালিয়া, হরিপুর, বাখরপুর, জব্বর ঢালী এলাকায় বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়ে লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আর মদিনা মার্কেট এলাকায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে আঞ্চলিক সড়কে পড়ে ছিল। পাশের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নেও একই অবস্থা।
তিনি আরও বলেন, বুধবার সকালের ঝড়ে পশ্চিম বালিয়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আজিজ তালুকদারের ঘরের ওপর দুটি গাছ ভেঙে পড়ে। ওই পরিবারের তিন সদস্য আহত হন। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়িতে ঈদ করতে এসে চরম দুর্ভোগে পড়েছি।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ঝড়ের পর আমাদের লোকজন কাজ করেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করে লাইন চালু করা হয়েছে। এরপরও যদি কোনো গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকে, জানালে সেখানে আমাদের লোকজন কাজ করবে।
