মতলব উত্তরে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে উপজেলার অন্তত ৪৪৫ হেক্টর ফসলি জমি আক্রান্ত হয়েছে। এতে বোরো ধান, ভুট্টা ও গ্রীষ্মকালীন সবজি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতের এই ঝড়ে ফসলের পাশাপাশি গাছপালা উপড়ে এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সোমবার দুপুরে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক জমিতে ধান পাকতে শুরু করেছে। শিলাবৃষ্টির আঘাতে পাকা ধান ঝরে পড়েছে এবং অনেক স্থানে গাছ মাটিতে লুটিয়ে আছে। কেউ কেউ আগাম ধান কেটে জমিতে রেখেছিলেন, যা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। একই অবস্থা ভুট্টার ক্ষেত্রেও; শুকানোর জন্য উঠানে রাখা ভুট্টা ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ওঠারচর গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা আতাউর রহমান সরকার বলেন, এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। কিন্তু কালকের শিলাবৃষ্টিতে আমার জমির ২০ শতাংশ পাকা ধান ঝরে গেছে। এখন আর্থিক ক্ষতি কীভাবে সামাল দেব বুঝতে পারছি না।
একই আক্ষেপ শোনা গেল দেওয়ানজীকান্দি গ্রামের ভুট্টা চাষি ইমরান হোসেনের কণ্ঠে। তিনি জানান, আগের ঘূর্ণিঝড়েই তার খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, রোববারের শিলাবৃষ্টি যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে সড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে এবং তার ছিঁড়ে পড়ায় অনেক গ্রাম এখনো অন্ধকারে রয়েছে।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ৪৪৫ হেক্টর জমি আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। মাঠপর্যায়ে আমাদের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। বৃষ্টি কৃষির জন্য উপকারী হলেও শিলা বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর কারণে বোরো ধান, ভুট্টা ও সবজি সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের দ্রুত কাটা ধান নিরাপদ স্থানে নেয়া, ভুট্টা সংরক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
