ফরিদগঞ্জ হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজের ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সেটু কুমার বড়ুয়ার নাম করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের বরখাস্তকৃত শিক্ষক মফিজুল ইসলাম ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে। সভাপতি বলছেন, তিনি কিছুই জানেন না। এ ঘটনায় তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
সরেজমিন কলেজে গিয়ে পরীক্ষার্থী, অভিযুক্ত ও বহিষ্কৃত শিক্ষক এবং সভাপতির সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে। শিক্ষাবোর্ডের নিয়মানুযায়ী ফরম পূরণে বিজ্ঞান বিভাগের নির্ধারিত ফি ২ হাজার ৯৯৫ টাকা, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ফি ২ হাজার ৪৩৫ টাকা।
কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুন নাহার রিপা জানান, তার কাছ থেকে ফরম পূরণে ৪ হাজার টাকা এবং কোচিংয়ের জন্য ১ হাজার ৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে। একই বিভাগের আব্দুর রশিদ জানান, তার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৬ হাজার টাকা। কিন্তু তাকে কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি।
বিজ্ঞান বিভাগের রাফি জানান, তার কাছ থেকে ফরম পূরণে নেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। ৪ মার্চ তার ক্লাসের জামিলের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন দেলোয়ার হোসেন। ৪ মার্চ থেকে তিনি এই দায়িত্বে নেই। ফলে কলেজের দায়িত্বে রয়েছেন বরখাস্ত শিক্ষক মফিজুল ইসলাম ভুঁইয়া। যদিও সিনিয়র হিসাব শিক্ষক গৌরি রানি সাহা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন, কিন্তু তাকে নানা অজুহাতে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রভাবশালী ও বরখাস্ত শিক্ষক মফিজুল ইসলাম সম্পর্কে জানা গেছে, অসদাচরণের জন্য ২০১৫ সালে তাকে কলেজ কর্তৃপক্ষ বহিষ্কার করেছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেয় এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের বিষয়টি নিস্পত্তি করার জন্য। কিন্তু এই শিক্ষক উল্টো কলেজ কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করে রেখেছেন। দুটি বিষয় এখন পর্যন্ত সুরাহা হয়নি। তবে মফিজুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর প্রভাব খাটিয়ে কলেজে এসে নানা অনিয়ম চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বরখাস্ত শিক্ষক মফিজুল ইসলামকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা কীভাবে নেওয়া হচ্ছে। জবাব দেওয়ার আগে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। পরে কিছুটা শান্ত হয়ে বলেন, কলেজের এমপিওভুক্ত নয় এমন শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার জন্য ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। এভাবে নেওয়ার নিয়ম নেই, সিদ্ধান্ত কে দিয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সভাপতি অনুমতি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে এই শিক্ষক আমার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি। তাকে আমি আমার দপ্তরে ডেকেছি। তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগের ইউএনও’র নাম করেও তারা অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছে।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে গণমাধ্যমের বেশ কয়েকজন কলেজে গিয়েছিলেন। তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন শিক্ষক মফিজুল ইসলাম। বিষয়টি আমি লিখিত অভিযোগ হিসেবে পেয়েছি। তদন্ত কমিটি এ বিষয়টিও দেখবে। গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ দুঃখজনক।
বরখাস্ত শিক্ষক মফিজুল ইসলাম ভুঁইয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সভাপতি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক সবকিছু হবে। এর বাইরে কোনো কিছু হবে না।
