হাজীগঞ্জ উপজেলাতে কর্মরত ভূমি অফিসের এক কর্মচারীকে ঘিরে অনিয়ম, দালালচক্র নিয়ন্ত্রণ ও অসঙ্গত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তাঁর আয়-ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পদের মিল নেই। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা হাবিবুর রহমান, স্থানীয়ভাবে মানিক মিয়া নামে পরিচিত। তিনি চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০১০ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে অফিস সহায়ক পদে চাকরিতে যোগ দেন। তাঁর প্রথম কর্মস্থল ছিল ৭ নম্বর বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন তহসিল অফিস। বর্তমানে তিনি ৯ নম্বর গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে একই উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালন করায় তাঁর একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর বদলি হওয়ার বিধান থাকলেও তাঁর ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি—এমন প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
অভিযোগ রয়েছে, নামজারি, খারিজ, পর্চা সংশোধন ও রেকর্ড সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবায় তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন দালালচক্র সক্রিয়। সেবাগ্রহীতাদের সরাসরি সেবা না দিয়ে দালালদের মাধ্যমে কাজ করানো হয় এবং এর বিনিময়ে অর্থ লেনদেন হয় বলে অভিযোগ। গত বছরের নভেম্বর মাসে তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন এক দালালের বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাকে দা দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। তবে এ ঘটনায় দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, তাঁর সরকারি মূল বেতন ১৬ হাজার ১০০ টাকা। ভাতা-সহ মাসিক আয় প্রায় ২৭ থেকে ২৮ হাজার টাকা। স্থানীয়দের প্রশ্ন—এই আয়ে কীভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ ও একাধিক সম্পত্তি ক্রয় সম্ভব?
অভিযোগ রয়েছে, নিজ গ্রাম অলিপুরে তিনি বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। ইতোমধ্যে একতলা ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে; ভবনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সংযোজন এবং চারপাশে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, ভবন নির্মাণে কয়েক লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। এছাড়া তাঁর নিজের ও স্ত্রীর নামে একাধিক জমি ও সম্পত্তি ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এসব সম্পদের উৎস সম্পর্কে তিনি প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেননি বলে অভিযোগ।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন সংস্থার কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন তারা।
সূত্র: মেঘনা পোস্ট
