নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ও ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে সম্মানীর নির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো ঠিক হয়নি; শিগগিরই আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারবিষয়ক এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, ঈদের আগেই পর্যায়ক্রমে কিছু এলাকায় এ কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম ছিল মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন-খতিব এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মগুরুদের নিয়মিত সম্মানী ও উৎসবভাতা চালু করা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে। সম্মানীর পরিমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর আলোচনার মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা হবে।
বৈঠকে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। মাহদী আমিন বলেন, বৈষম্যহীনভাবে মেধার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান বাড়ানো সরকারের বড় লক্ষ্য। সরকারি ও বেসরকারি খাত, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং বৈদেশিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নীতিমালা সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বিশেষ করে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও মতামত উঠে আসে।
এ ছাড়া বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের মতামত তুলে ধরেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে একমত হন।
এর আগে সকালে তেজগাঁও কার্যালয়ে এসে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন তাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় কর্মদিবস এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি একাধিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
