কুড়িগ্রামের চিলমারীতে নির্বাচন এলেই যেন কিছু মানুষের কল্পনার ডানা মেলে দেয়। সেই ধারাবাহিকতায় আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে ‘ভুয়া প্রার্থী’ ইস্যু।
ইউপি নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদ—সব জায়গায় ব্যর্থ হয়ে এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও হাজির হয়েছেন পুরোনো মুখ দুদু, তবে এবার— নতুন কাণ্ড নিয়ে।
নিজেকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী দাবি করে ‘কুলা’ প্রতীকে ভোট চাইছেন দুদু জোদ্দার নামের এক ব্যক্তি। পোস্টার, মাইকিং, প্রচারণা—কোনো কিছুরই কমতি নেই। শুধু একটি জিনিসেরই ঘাটতি: মনোনয়ন! নির্বাচন কমিশনে দুদু জোদ্দার নামে কেউ মনোনয়ন কিনেনি।
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরে হাইকোর্টের আদেশে একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলে মাঠে নামেন বৈধ ৭ প্রার্থী। ঠিক তখনই হঠাৎ যেন সিনেমার ক্লাইম্যাক্স দৃশ্য—পর্দায় আবির্ভাব ঘটে ‘দুদু জোদ্দার’-এর! নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী দাবি করে ‘কুলা’ প্রতীকে ভোট চেয়ে এলাকায় পোস্টারিং ও প্রচার শুরু করেন তিনি। এতে সাধারণ ভোটারদের মাঝে তৈরি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি—কেউ ভাবছেন নতুন প্রার্থী, কেউ আবার বলছেন, “এ আবার কোন নাটক?” দুদু জোদ্দার চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের কড়াইবরিশাল নতুন আশ্রয়ন কেন্দ্র এলাকার ধনীয়া জোদ্দারের ছেলে।
এটাই অবশ্য তার প্রথম অভিযান নয়। এর আগেও তিনি উলিপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পরিচয়ে কুড়িগ্রাম-৩ আসনে ‘হেলিকপ্টার’ প্রতীকে সংসদ সদস্য প্রার্থী দাবি করে পোস্টার ও মাইকিং চালিয়ে এলাকায় হাস্যরসের ঝড় তুলেছিলেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ‘দুদু জোদ্দার’ নামে সংসদ সদস্য পদে কোনো মনোনয়নপত্র বিতরণ কিংবা জমা নেওয়ার তথ্য নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন, “ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দুদু জোদ্দার দাবি করেন, “আমি মনোনয়ন ফরম কিনেছি, জমাও দিয়েছি। আমি বৈধ প্রার্থী।”
এদিকে ভোটারদের প্রশ্ন—যেখানে তালিকায় নাম নেই, সেখানে কুলা নিয়ে সংসদে যাওয়ার এই আত্মবিশ্বাস আসে কোথা থেকে?
চিলমারীতে এখন আলোচনা একটাই—নির্বাচন নাকি কমেডি শো? 😄
