আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক তার মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় আয়, সম্পদ ও দায়ের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেছেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা
হলফনামা অনুযায়ী, মমিনুল হকের নামে রয়েছে নগদ অর্থ ২৫ লাখ ৩০ হাজার ৯২০ টাকা, আর তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ২ লাখ টাকা। দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে তার একাধিক হিসাব রয়েছে। উত্তরা ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংকের হাজীগঞ্জ শাখা সহ অন্যান্য ব্যাংকে তার সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাব রয়েছে। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের একটি সঞ্চয়ী হিসাবেই জমাকৃত অর্থ প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
শেয়ারবাজারেও তিনি বিনিয়োগ করেছেন। বিভিন্ন কোম্পানিতে তাঁর নামে রয়েছে প্রায় ২০০০, ২০০ ও ১০০ শেয়ার, যার মোট অর্জনকালীন মূল্য ২৫ লাখ টাকা। এছাড়া প্রাইজবন্ড, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত এবং বিমা ও ট্রাস্টে তার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২৯ লাখ টাকা। এছাড়া পরিবারের মালিকানায় রয়েছে প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার, যা ২৫ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যমানের।
ছাড়া ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্রে তার মোট বিনিয়োগ ৫,৬৭,৫০০ টাকা। এতে খাট, সোফাসেট, ডাইনিং টেবিল, আলমিরা ও ওয়ারড্রপসহ বিভিন্ন ফার্নিচার এবং টেলিভিশন, কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্য অন্তর্ভুক্ত।
এ ছাড়াও রয়েছে ৩৭৭ শতাংশ কৃষিজমি, যার অর্জনকালীন মূল্য ৫৬,৫৫,০০০ টাকা। এছাড়া অকৃষি জমি ৬১,৭১৪ শতাংশ, যার মল্য ২,৯৫,৬০,০০০ টাকা। চাঁদপুর ও ঢাকায় তার এবং তার পরিবারের নামে একাধিক আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে। শাহরাস্তিতে ২.৫০ তলা ভবন, সোনাইমুড়ী ও হাজীগঞ্জে যৌথ মালিকানায় ৪১৯৬ ও ৩০০০ বর্গফুটের আবাসিক ভবন, হাজীগঞ্জ পৌরসভায় ২২০০ বর্গফুট টিনশেড ভবন এবং ঢাকার ডেমরা-মাতুয়াইলে ৭২০০ বর্গফুট ফ্ল্যাট তার মূল স্থাবর সম্পদ। স্ত্রীর ও সন্তানের নামে ঢাকার পরিবাগ ও মহাখালী এলাকায় ৪টি ফ্ল্যাটসহ আরও কয়েকটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এই সব মিলিয়ে তার স্থাবর সম্পদের মোট অর্জনকালীন মূল্য ৬,৬১,৩২,৪০০ টাকা, যা বর্তমান বাজারমূল্যে ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি।
ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তার বিভিন্ন ব্যাংক ঋণ রয়েছে। কোম্পানীর পরিচালক হিসেবে ঋণের পরিমাণ ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তার বিভিন্ন ব্যাংক ঋণ রয়েছে। কোম্পানীর নিকট পরিচালক হিসেবে ঋণের পরিমাণ ২০,৫০,০০০ টাকা, আর ফ্ল্যাট বিক্রয়ের অগ্রিম ৩৭,১৩,৮৪২ টাকা। মোট দায় ৫৭,৬৩,৮৪২ টাকা। তবে হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, কোনো সরকারি বকেয়া নেই এবং বিদ্যুৎ, ওয়াসা, পৌরকর ও অন্যান্য সরকারি বিল নিয়মিত পরিশোধ করা হয়েছে।
সর্বমোট হিসাব করলে ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা।
