চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের রাগৈ গ্রামে মসজিদ ঘিরে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনার ঝড়। ‘রাগৈ কাঠের মসজিদ’ নামে পরিচিত এই স্থাপনাটি সম্পূর্ণ খাঁটি কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে—যেখানে একটিও লোহা বা কংক্রিটের ব্যবহার নেই। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে স্থানীয়দের উদ্যোগে গঠিত রাগৈ ফাউন্ডেশন, যাদের লক্ষ্য শুধু একটি মসজিদ নির্মাণ নয়, বরং ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের সম্মিলন ঘটানো।
দৃষ্টিনন্দন কাঠামো, সুন্নাহভিত্তিক নির্মাণ
পণ্ডিত বাড়ি এলাকায় নির্মিত এই মসজিদটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে সম্পূর্ণ দেশি কাঠ, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে আনানো হয়েছে। দক্ষ কারিগরদের হাতে তৈরি এ কাঠামোয় ফুটে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী নির্মাণশৈলী ও আধুনিক ভাবনার মেলবন্ধন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এই মসজিদটি নির্মিত হচ্ছে সুন্নাহভিত্তিক কাঠামো মেনে, যেখানে টেকসইতা ও নান্দনিকতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দর্শনার্থীর ভিড়
বাহ্যিক কাঠামো ও নান্দনিক আলোকসজ্জা এরই মধ্যে পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ছে। মসজিদটি মেইন রোডের পাশে হওয়ায় রাতের বেলা আলোকিত কাঠামো দেখে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছে এর সৌন্দর্য দেখতে। স্থানীয়রা বলছেন, “কাজ শেষ হয়নি জেনেও মানুষ শুধু মসজিদটা একবার কাছ থেকে দেখতে আসেন।”
রাগৈ ফাউন্ডেশনের ভাবনা: মসজিদ হবে সমাজ উন্নয়নের কেন্দ্র
রাগৈ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতারা জানিয়েছেন, এই মসজিদটি শুধু নামাজের স্থান হিসেবে নয়, বরং এটি হবে ইসলামী শিক্ষা, কুরআন চর্চা, যুব উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং সমাজকল্যাণমূলক নানা কর্মকাণ্ডের একটি প্রাণকেন্দ্র। এরই মধ্যে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মসজিদের পাশেই একটি হাসপাতাল নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে।
ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার আধুনিক পুনর্জাগরণ
বাংলাদেশে কাঠের মসজিদের ঐতিহ্য একেবারে নতুন নয়। শতবর্ষী পিরোজপুরের ‘মমিন মসজিদ’ এবং নারিন্দার ‘বিনাত বিবি মসজিদ’ আমাদের স্থাপত্য ঐতিহ্যের গৌরবময় উদাহরণ। তবে একবিংশ শতাব্দীতে এসে আধুনিক কাঠের নির্মাণশৈলীতে এমন একটি সম্পূর্ণ কাঠের মসজিদ নির্মাণ নিঃসন্দেহে এক সাহসী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
সম্ভাবনার বার্তা
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করছেন ‘রাগৈ কাঠের মসজিদ’ শাহরাস্তির অন্যতম দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠবে এবং ধর্মীয়, সামাজিক ও পর্যটন ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
