চাঁদপুরে চামড়ার সরকারী মূল্য উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে চামড়ার নির্ধারিত দাম ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা নির্ধারন করা হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারনে এ অবস্থা বিরাজ করছে বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। বড় আকারের কোরবানির পশুর চামড়া সর্বোচ্চ মূল্য ৫ শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে ফরিয়ারা অভিযোগ করে জানান।
শহরের বাসিন্দা সোহানুর রহমান ছাগলের চামড়া নিয়ে এসেছিলেন বিক্রি করতে। আড়তদার তাকে জানান, তারা ছাগলের চামড়া কেনেন না। প্রয়োজনে নদীতে ফেলে দিতে পরামর্শ দেন।
শহরের মাদরাসা রোড এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, গত কয়েক বছর কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করিনি। এতিমখানায় দিয়েছি। কারণ খুচরা ব্যবসায়ী ছিল না। এ বছর আমাদের এক লাখ ৪১ হাজার টাকায় কেনা গরুর চামড়া বিক্রি করেছি ৫০০ টাকায়। স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা বাসায় এসে কিনে নিয়ে গেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের পালবাজারের সবচেয়ে বড় পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ী ছিলেন, মোহাম্মদ এমদাদ হোসেন পাটওয়ারী। তিনি কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। তার চামড়ার ব্যবসাও বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে এ বাজারে চামড়ার ব্যবসা করেন বাচ্চু সরদার এবং মো. মাসুদ গাজী। এছাড়া সদর উপজেলার ঢালীরঘাট এলাকার মিরাজ এবং বিপনীবাগ বাজার এলাকার মো. আনোয়ার এ বছর খুচরা চামড়া কিনেছেন।
পালবাজারের চামড়া ব্যবসায়ী মাসুদ গাজী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে চামড়ার দাম ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা নির্ধারন করা হলেও ওই দামে কেনা সম্ভব হচ্ছেনা। সরকারিভাবে চামড়া কেনা হয় না। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিক্রিমূল্য নির্ধারিত হয়। তবে এ বছর আমরা চামড়া আকার অনুসারে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে কিনেছি। এরপর সাত থেকে ১৫ দিন এসব চামড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করে রাখতে হবে। তিনি জানান, তার কেনা চামড়ার পরিমাণ প্রায় তিন হাজার।
তিনি আরও বলেন, এবার তিন হাজারের বেশি চামড়া কিনেছি। লবণ কিনেছি দেড় লাখ টাকার। শুধু ঈদের দিনেই শ্রমিকদের খরচ দিয়েছি এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। শহরের পুরানবাজার ও পালবাজারের একাধিক ঘরে আমার চামড়াগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে। এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব চামড়া ঢাকায় বিক্রি করব। আশা করছি, সব চামড়া বিক্রি করে খরচ শেষে কিছুটা হলেও লাভ থাকবে।
