ঢাকাবুধবার , ২১ মে ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাপানের অর্থায়নে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র হবে চাঁদপুরে

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ২১, ২০২৫ ১:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চাঁদপুরকে পর্যটন জোন হিসাবে গড়ে তোলার জন্য মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জাপানের অর্থায়নে রিভার আইল্যান্ড রিসোর্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম লিমিটেড আন্তর্জাতিকমানের রিসোর্ট করা হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে জপানের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি চাঁদপুরে এসে জোনসংশ্লিষ্ট চরসহ বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করেছেন। প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বেসরকারি পর্যায়ে এ পর্যটন শিল্পটি গড়ে তোলা হবে বলে জানা গেছে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, চাঁদপুরকে নিয়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। আমরা শিগগিরই কাজ শুরু করব। তবে শুধু জেলা প্রশাসনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকা ঠিক হবে না। সবাইকে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও জেলার উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে চাঁদপুর নিয়ে আমাদের স্বপ্ন ও চিন্তা আরও প্রসারিত

 

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, চাঁদপুর শহরের পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থল বড় স্টেশনের পশ্চিম পাশের মোলহেড এলাকায় রিভারভিউ করার মতো বড় প্রকল্পের কাজ শুরুর জন্য সবদিক বিবেচনাপূর্বক পরিকল্পনা করা হবে। মোলহেডের ঝুঁকি কমানো ও শহর রক্ষায় আমরা এসব প্রকল্প পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাই। এর আগে চলতি বছরের প্রথম দিকে নদীকেন্দ্রিক চাঁদপুরে পর্যটন শিল্পের প্রসারে মহাপরিকল্পনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে প্রশাসনের নানা পরিকল্পনার উদ্যোগ জেলাজুড়ে বেশ আলোচিত হয়। যা এখনো অব্যাহত আছে। কিন্তু সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির ‘ক্যাশিয়ার’খ্যাত বালুখেকো সেলিম খান সিন্ডিকেটের কালো থাবাসহ নানা কারণে সেই উদ্যোগ আলোর মুখ দেখেনি। আবার অনেকে অতীত অভিজ্ঞতায় এ উদ্যোগ আলোর মুখ দেখবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছিলেন। প্রায় ৫ বছর আগে এ ধরনের পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই লক্ষ্যে কিছু কাজও করা হয়। তবে বিগত সরকারের সময়ে সেটি আর আলোর মুখ দেখেনি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের এই মেয়াদে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চাঁদপুর জেলা উন্নয়ন পরিকল্পনাবিষয়ক সভায় পর্যটন বিষয়ে তিনটি নির্ধারিত উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। এই তিনটি পরিকল্পনা হলো-বড় স্টেশন মোলহেডে ‘রিভারভিউ’ তৈরি, জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর পেছনে ‘ডিসি পার্ক’ ও ডাকাতিয়া নদীর ওপরে ভাসমান রেস্তোরাঁ নির্মাণ এবং ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানকে স্মৃতিময় করার জন্য ‘ক্যাপে-২৪’ নির্মাণ।

উন্নয়ন পরিকল্পনার সেদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্ল্যাহ সেলিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাড. মো. শাহজাহান মিয়া, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান কবির প্রমুখ। তারা এ বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। এদিকে, গত বেশ কয়েকদিন ধরে ‘জেলা প্রশাসন চাঁদপুর’ ফেসবুক আইডিতে পর্যটন নির্ভর চাঁদপুরের পরিকল্পনা সচিত্র ও ডামি ভিডিও উপস্থাপন করা হয়। ওইসব চিত্রে প্রায় ৫শ মানুষ পর্যটন শিল্প গড়ার বিষয়ে তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন।

ঢাকার চাঁদপুর জেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি, মিজান মালিক বলেন, চাঁদপুরকে পর্যটন জোন হিসাবে গড়ে তোলার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এজন্য পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় ও রেল মন্ত্রণালয়সহ একাধিক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি আদান প্রদান করা হয়। রেল মন্ত্রণালয় আমাদের আবেদনে চাঁদপুর-কক্সবাজার রুটে সরাসরি ট্রেন সার্ভিস চালুর বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাছাইয়ে একটি কমিটিও গঠন করে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে সাধুবাদ দিতে হয়, চাঁদপুরে পর্যটন হাব গড়ে তোলার জন্য জাপানি বিনিয়োগ আনার বিষয়ে আগ্রহ দেখানোয়।

চাঁদপুর উন্নয়নে নানাভাবে সম্পৃক্ত মনিরা আক্তার বলেন, এটা আমাদের প্রাণের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে এ দাবি ঝুলে আছে। সরকার এখন যে উদ্যোগ নিয়েছে আমরা চাই তার বাস্তবায়ন। চাঁদপুর শহরে এ পরিকল্পনা নিয়ে নেটিজনদের মধ্যে উৎসাহ রয়েছে। সুধী সমাজ পর্যটন শিল্পের বিকাশে প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন চান। এখন প্রয়োজন প্রকল্প বাস্তবায়ন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।