হাজীগঞ্জে যত্রতত্রে ফেলা হচ্ছে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা। এ যেন ময়লা-আবর্জনা রাখার ডাম্পিং জোনে পরিণত হয়েছে।
পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন মহল্লা থেকে প্রতিদিন ভ্যানে করে ময়লা-আবর্জনা এনে সড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য-ময়লা-আবর্জনা। এসবের দুর্গন্ধে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে আশপাশের মানুষ। একই সাথে হাজীগঞ্জ-কচুয়া সড়কে পথচারী ও যানবাহনের হাজারো যাত্রীকে চলাচল করতে হচ্ছে নাক চেপে। মাঝে মাঝে এসব ময়লা-আবর্জনা ধংসের জন্য আগুন জ্বালানো হয়। তখন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।
শুধুমাত্র এ সড়কেই নয়, চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন মিঠানিয়া ব্রিজ ও আলীগঞ্জ এবং লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সড়কের ডাকাতিয়া নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজের মুখে সড়কের দুই পাশে বাসাবাড়ি ও হাটবাজারেও প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।
ময়লার কারণে ভরাট হয়ে গেছে সড়কের পাশের জলাশয়গুলোও। প্রথম শ্রেণীর এ পৌরসভার চতুর্মুুখী ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে দূষিত হচ্ছে চারপাশের পরিবেশ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও পৌর বাসিন্দারা।
ময়লা ফেলার জন্য পৌরসভার নিজস্ব কোন ডাম্পিং স্টেশন নেই। সূত্র জানায়, পৌর এলাকা ও বিভিন্ন হাটবাজার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০ টনের মতো বর্জ্য সংগ্রহ করে হাজীগঞ্জ পৌরসভা। পাশাপাশি পৌর বাসিন্দাদের আরো ২০ টনসহ মোট ৫০-৬০ টন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় সেগুলো ফেলা হচ্ছে চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মিঠানিয়া ব্রিজের উত্তরপূর্ব ও পশ্চিম পাশে, হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের ডাকাতিয়া ব্রিজের পাশে,হাজীগঞ্জ-কচুয়া সড়কের রেলগেট এলাকায় এবং হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের উত্তর পার্শ্ববর্তী এলাকায়।
দেশের প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হাজীগঞ্জ। পৌরসভায় ঢুকতে হাজীগঞ্জ-কচুয়া সড়কে দেখা মিলবে একটি তোরণ। সেখানে লেখা রয়েছে ‘স্বাগত হাজীগঞ্জ পৌরসভা’। অপরদিকে, পৌরসভা থেকে কচুয়ার পথে বের হওয়ার সময় দেখতে পাবেন আরেকটি তোরণ। সেখানে লেখা রয়েছে- ‘ধন্যবাদ হাজীগঞ্জ পৌরসভা’।
এ স্বাগত ও ধন্যবাদ লেখা তোরণের নিচে যদি ভুলক্রমে হলেও আপনার চোখ যায়,দেখতে পাবেন শুধু ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। কৌতুহলবশত হলেও আপনার কাছে তখন মনে হবে, পৌরসভার ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ই যেন আপনাকে স্বাগত ও বিদায় জানাচ্ছে।
কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান,পৌরসভার বর্জ্য-ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ ও ধোঁয়ার কারণে প্রতিনিয়তই আমরা স্বাস্থ্য ঝুঁঁকিতে আছি। তারা আরো বলেন,পৌরসভা আমাদের কোনো কথাই শুনে না। তাদের খেয়াল খুশিমতো মহাসড়কের আশপাশে ও জলাশয়ে আবর্জনা ফেলে স্থানীয়দের ভোগান্তির মধ্যে ফেলছে। পথচারীদের নাকে রুমাল এঁটে চলাচল করতে হয়।
হাজীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন) মাহবুবুর রশীদ বলেন, আমাদের কোনো ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হয়নি। এটা নির্মাণের জন্য পৌরসভার মালিকানাধীন জমি প্রয়োজন। আমাদের সেটা নেই। তিনি আরো বলেন, পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে এভাবেই সড়কের আশপাশে ও জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। সাবেক পৌর মেয়ররাই এ ব্যবস্থা করে গেছেন। আমাদের বিকল্প কোনো উপায় এখনো তৈরি হয়নি।
হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, খুব শিগগিরই বর্জ্য পরিশোধরেন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিকল্প জায়গার বন্দোবস্ত না হওয়া পর্যন্ত পৌরসভার ময়লা এসব স্থানেই ফেলতে হচ্ছে। সাময়িক সময়ের জন্য পৌরবাসীকে একটু কষ্ট হলেও সঠিক স্থানে ময়লা ফেলার আহ্বান জানাচ্ছি।
