চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে সরকারের ঘোষিত মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। জাটকা (ছোট ইলিশ) রক্ষায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এ সময় নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
জানা যায়, নদীর সীমানায় উপজেলা প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের ক্যাম্প বসানো হলেও রাতের আঁধারে থেমে নেই মা ইলিশ শিকার। প্রশাসনিক নজরদারি ও অভিযান থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে চলছে জাটকা নিধন।
শনিবার (৫ এপ্রিল) সকালে ষাটনল এলাকার নদীপাড়ে ঘুরে দেখা যায়, শত শত নৌকা নদীর তীরে। জেলেরা তাদের ভেজা জাল শুকাচ্ছে, পরিস্কার করছে। দূর থেকেই দেখা যায়, কিছু নৌকা তখনও নদীতে মাছ ধরায় ব্যস্ত।
অন্যদিকে, আমিরাবাদ, বাবুবাজার, কালিরবাজার, একলাসপুরসহ বিভিন্ন আড়তে প্রকাশ্যে চলছে জাটকা বিক্রি। পাইকাররা মাছ কিনে ট্রাক ও পিকআপে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন।
স্থানীয় অনেক জেলে অভিযোগ করে বলেন, ইমান আলী নামে এক ব্যক্তি মৎস্য অফিসের লোক পরিচয়ে টোকেন দিয়ে নদীতে মাছ ধরার সুযোগ করে দিচ্ছেন। টোকেন ছাড়া নদীতে নামলে জেল-জরিমানা গুনতে হয়।
এ বিষয়ে ইমান আলী বলেন, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। মূলত আড়তদাররাই জেলেদের নদীতে নামায়।
নৌ-পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনার কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী জানান, রাতে অভিযান পরিচালনায় জনবল সংকট রয়েছে। তারপরও আমরা অভিযান চালাচ্ছি।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এখলাসপুর, আমিরাবাদ, বাবুবাজার ও কালিরবাজারের আড়ত ব্যবসায়ীরা জানান, জেলেদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে মাছ ধরছেন। তাদের সংসার চলে এই মাছ ধরার ওপর। তাই প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে বেচাকেনা।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে মৎস্য বিভাগকে আরও কঠোর হতে হবে।
