ঢাকাবুধবার , ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইয়াবার নামে বিক্রি হচ্ছে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, দেখা দিচ্ছে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি

Chandpur Tribune
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৬:২৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ভয়াবহ এক নেশার নাম ইয়াবা ট্যাবলেট। বাংলাদেশে ২০০২ সালে প্রথম এই নেশা শুরু হয়, এর পর থেকে তা বেড়েই চলেছে। মিয়ানমারে তৈরি হওয়া এই মাদকদ্রব্যটি চোরাচালান হয়ে বাংলাদেশে আসে। আর এটি এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে, প্রতিনিয়ত অভিযানে নামতে বাধ্য হচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

রাজশাহীতেও ইয়াবা ঠেকাতে চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান। এই অভিযানের মুখে আসল ইয়াবার জোগান কমে গেছে। ফলে নেশার বাজারে শুরু হয়েছে অভিনব এক প্রতারণা। মাত্র এক টাকা দামের সাধারণ ওষুধকে মার্কার বা সাইনপেন দিয়ে লাল-গোলাপি রঙ করে ইয়াবা হিসেবে বিক্রি করছে এক অসাধু চক্র। প্রতিটি ট্যাবলেট তারা বিক্রি করছেন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর আইডি বাগানপাড়া রেললাইন এলাকা, বারো রাস্তা, বুধপাড়া, কোর্ট ঢালান, গুড়িপাড়া ও নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন স্পটে কৌশলে এই ভুয়া ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে। ইয়াবার মতো চেহারা দিতে মূলত জন্মনিয়ন্ত্রণ ট্যাবলেট ‘মায়াবড়ি’ ও কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধ ‘ডুরালাক্স’ ব্যবহার করছে চক্রটি। কম দামে বা সংকটের সময়ে মাদক পাওয়ার প্রলোভনে আসা তরুণরাই মূলত এই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। ভুয়া এই মাদক সেবন করে অনেকেই মারাত্মক শারীরিক সমস্যায় পড়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মাদকসেবী জানান, ঘন ঘন অভিযানের ফলে মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেই ইয়াবা বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। এ সংকটে তারা প্রতিনিয়ত মাদক ব্যবসায়ীদের দ্বারা প্রতারিত হচ্ছেন। তারা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ও ডুরালাক্স দিয়ে দিচ্ছেন। এসব সেবন করার পর তার ঘন ঘন টয়লেট যেতে হচ্ছে।

এ ধরনের ওষুধ সেবন স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর জানিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এবং অপ্রয়োজনে এসব ওষুধ সেবনে শরীরে তীব্র পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে। সেই সঙ্গে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে।

 

তিনি বলেন, কোনো পুরুষ যদি নিয়মিত এই ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ খায়, তাহলে তার হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, স্তন ফুলে যাওয়া, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক ও পুরুষত্বহীনতায় ভোগার আশঙ্কা রয়েছে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, অভিযানের কারণে আসল মাদকের অভাব তৈরি হওয়ায় চক্রগুলো এই অপকৌশল বেছে নিয়েছে। এই ধরনের অপরাধ আরও নতুন নতুন অপরাধ তৈরির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে সমাজের অবক্ষয় তলানিতে গিয়ে ঠেকে। তখন দেখা যায়, যুবসমাজ কর্মমুখী চিন্তা বাদ দিয়ে, সহজ উপায়ে ও অসাধু পথে অর্থ উপার্জনের দিকে পা বাড়ায়।

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপ-কমিশনার গাজিউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, শুধু ইয়াবা নয়, সব ধরনের মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে মহানগর পুলিশ মাদক বিক্রির আস্তানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং সেসব জায়গা থেকে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তবে ইয়াবার আদলে ‘মায়া বড়ি’ ও ‘ডুরালাক্স’ বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। এছাড়া, বিষয়টি দ্রুতই তদন্ত করা হবে বলে নিশ্চিত করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

 

 

 

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।