চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্যে এবং সেই শিক্ষকের ফেসবুক পেস্টে কমেন্ট করায় অফিস সহকারীকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম ইশমাম তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
এই দুজন হলেন বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক জুয়েল তালুকদার ও অফিস সহকারী মো. সুমন। ইউএনও কে এম ইশমাম ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিদ্যালয় ও ইউএনওর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক জুয়েল তালুকদার তার নিজের ফেইসবুক পেইজে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যাঙ্গ করে এবং কুরুচিপূর্ণ ও সমালোচনামুলক একাধিক পোস্ট করেন ওই শিক্ষক। বিগত কয়েক মাস যাবৎ ‘জুয়েল তালুকদার’ নামের ফেইসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ছাড়াও বিএনপির সাবেক মহাসচিব বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছবি দিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।
বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নজরে আসলে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান বলেন, ‘ওই শিক্ষক সরকারের সুবিধা ভোগ করে তার ফেইসবুক পেইজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা করে আসছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।’
মতলব পৌর বিএনপির সভাপতি শোয়েব আহমেদ সরকার বলেন,‘ওই শিক্ষক মতলবগন্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অন্তরালে সরকারের বিরুদ্ধে কটুক্তি করার অভিযোগে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান তিনি।’
ঘটনার সত্যতার স্বীকার করে জুয়েল তালুকদার বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি পরবর্তীতে ডিলিট করে দিয়েছি।’
বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকালে একাধিক ব্যক্তি, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী ও সংবাদকর্মী এসব পোস্টের তথ্য-প্রমাণসহ ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন।
প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করে জুয়েল তালুকদারকে শ্রেণি কার্যক্রম থেকে এবং সুমনকে দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অভিযোগ তদন্তে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন সমাজসেবা কর্মকর্তা টিটু চন্দ্র ধর ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল হাই। কমিটিকে আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক কাজী মো. শাহ আলম। অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক জুয়েল তালুকদার ও অফিস সহকারী সুমনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ইউএনও কে এম ইশমাম বলেন, ‘শিক্ষকসহ দুজনকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ কার্যদিসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।’
