স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চিত্র দেখতে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। আকস্মিক এ পরিদর্শনে হাসপাতালের ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
একপর্যায়ে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নূর আলম দীনকে উত্তরবঙ্গের কোনো জেলায় বদলির নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তবে প্রায় দুই ঘণ্টা পর সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সিভিল সার্জনকে ক্ষমা করার কথা জানান তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পূর্বঘোষণা ছাড়াই হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, রোগীদের চিকিৎসাসেবা, ওষুধের মজুত ও হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তারা যথাযথ চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন কি না, সে বিষয়ে জানতে চান।
এ সময় হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটের বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে আসে। বিশেষ করে প্রায় এক মাস ধরে জলাতঙ্কের টিকা (র্যাবিস ভ্যাকসিন) ও নরমাল স্যালাইন (এনএস) না থাকার বিষয়টি তাকে জানানো হলে তিনি ক্ষুব্ধ হন।
পরে হাসপাতাল থেকেই মন্ত্রণালয়ে ফোন করে চাঁদপুরের সিভিল সার্জনকে উত্তরবঙ্গের কোনো জেলায় বদলির নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ফোনালাপে তিনি বলেন, ‘চাঁদপুরের সিভিল সার্জনকে একেবারে উত্তরবঙ্গের দিকে দেবেন। আর অন্য একজন সিভিল সার্জন দেন এখানে।’
এ সময় চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে তত্ত্বাবধায়ক, সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
বৈঠকে সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে র্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকটের বিষয়ে ভুল-বোঝাবুঝির বিষয়টি মন্ত্রীকে জানানো হলে তিনি আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। একই সঙ্গে সিভিল সার্জনকে ক্ষমা করার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নূর আলম দীন বলেন, ‘হাইমচরে র্যাবিসের টিকা শেষ হয়ে গিয়েছিল। এ জন্য স্যার একটু রাগ করেছিলেন।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে তা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে শিগগিরই ওয়ার্ডভিত্তিক কমিউনিটি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট এবং সিভিল সার্জনকে বদলির নির্দেশ দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের ঘটনায় জেলার স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
