ঢাকারবিবার , ২৬ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মতলব সরকারি হাসপাতালের ছাদ খসে পড়ছে, আতঙ্কে রোগী-স্বজন

মতলব দক্ষিণ প্রতিনিধি
জুলাই ২৬, ২০২৬ ২:১৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক ভবনের ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে খসে পড়ছে পলেস্তারা, সুরকি ও সিমেন্টের অংশ। এতে হাসপাতালে ভর্তি রোগী, তাদের স্বজন, চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে রয়েছে। এখানে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৪০টি হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৮ জন। কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১৯২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১১৬ জন।

এছাড়া রয়েছে নার্স সংকট, অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞের অভাবে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালটিতে নেই অ্যাম্বুলেন্স, এক্স-রে মেশিনসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার শত শত মানুষ প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এরই মধ্যে হাসপাতালের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার ছাদের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গা থেকে নিয়মিত খসে পড়ছে পলেস্তারা ও সুরকি। ফলে রোগী ও স্বজনরা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো এড়িয়ে চললেও প্রয়োজনের তাগিদে আতঙ্ক নিয়েই চলাচল করছেন।

মতলব উত্তর উপজেলার ইন্দুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছানাউল্লাহ বলেন, “মেয়েকে নিয়ে তিনদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। দ্বিতীয় তলা থেকে নামার সময় বারবার ছাদের দিকে তাকিয়ে হাঁটতে হয়েছে। ফাটল ধরা স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় খুব ভয় লাগে। এমন পরিবেশে হাসপাতালে থাকা নিরাপদ নয়।

বরদিয়া এলাকার রোগী শাহনাজ বেগম বলেন, “মানুষ হাসপাতালে আসে সুস্থ হতে। কিন্তু এখানে থাকতে হচ্ছে আতঙ্ক নিয়ে। কখন মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ে সেই ভয় কাজ করে। আবার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতিও নেই। দ্রুত ভবন সংস্কার ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা উচিত।

রোগী ফারজানার এক অভিভাবক জানান, চিকিৎসকের কক্ষের সামনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে অপেক্ষার পুরো সময়জুড়েই ছাদের দিকে নজর রাখতে হয়েছে, কারণ যে কোনো সময় পলেস্তারা খসে পড়তে পারে।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রাজিব কিশোর বনিক বলেন, “হাসপাতালের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার বিভিন্ন স্থানে ফাটল রয়েছে। নিয়মিত পলেস্তারা ও সুরকি খসে পড়ছে। রোগী ও স্বজনদের সতর্ক করতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কীকরণ নোটিশ টানানো হয়েছে। তবে আমরা নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম রায়হান বলেন, “হাসপাতালের পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসক, নার্স, জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের বিষয়েও অবহিত করা হয়েছে। সীমিত সক্ষমতা নিয়েই আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম ইশমাম বলেন, “হাসপাতালের ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি আমার জানা আছে। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।